রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসে একজনের মৃত্যু

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ধসে পড়া একটি মৃত গাছের নিচে চাপা পড়ে লক্ষী বিলাস চাকমা (৪০) নামে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লাইল্যাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত লক্ষী বিলাস চাকমা ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। লক্ষ্মী বিলাস চাকমা ওই এলাকার মৃত ধরনাচাষ্য চাকমার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিম্নচাপের প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও সোমবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় টানা ভারী বর্ষণ। মঙ্গলবার সকালে লক্ষী বিলাস চাকমা একটি মৃত গাছের গোড়া পরিষ্কার করার সময় গাছটি হঠাৎ তার ওপর ভেঙে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

খবর পেয়ে বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুপ্তর্ষী শাহাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ইউএনও আমেনা মারজান বলেন, পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় রাঙ্গামাটির বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সোমবার থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাইকিং করা হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেক বাসিন্দাই এখনো ঘর ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসলাম সারোয়ার বলেন, আমরা গতকালও মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করেছি এবং আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছি। আজ সকাল থেকেও ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট, পৌরসভা ও জেলা পুলিশের সহায়তায় মাইকিং করছি এবং আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি যদি আরো খারাপ হয় তখন প্রয়োজনে আমরা কঠোর হবো, কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতেই হবে।

রাঙ্গামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৬৪.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ১১টিসহ জেলায় ৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।