মার্কিন পপ তারকা নিক জোনাস এবং বলিউড ডিভা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বিয়েরে আট বছর পার হচ্ছে। বিয়ের শুরু থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার বিরাম নেই। মাঝে-মধ্যেই নেটপাড়ায় রটে যায় তাদের বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের গুঞ্জন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডস-এর মঞ্চে দুজনে আলাদা আলাদাভাবে পৌঁছাতেই এই জল্পনা নতুন করে ডালপালা মেলে। অতীতেও বহুবার তাদের এই বিয়েকে ‘লোকদেখানো’ বা ‘পারফর্মেটিভ’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। এবার এই সমস্ত নিয়ে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।
সম্প্রতি ‘ভ্যারাইটি’কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা সাফ জানান, তাদের সম্পর্ক নিয়ে চলা অবিরাম চর্চা বোঝার চেষ্টা তিনি এখন ছেড়ে দিয়েছেন। অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমাদের বিয়ের আট বছর হয়ে গেল। এরপরেও যদি মানুষ আমাদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকতে চান, তবে সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি এই নিয়ে মাথা ঘামানো বন্ধ করে দিয়েছি।’
প্রিয়াঙ্কার চেয়ে ১০ বছরের ছোট নিক । পাশাপাশি দুজনের সংস্কৃতি ও পটভূমিও সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রিয়াঙ্কার ধারণা, এই বিষয়গুলোই হয়ত অনেকে সহজে মেনে নিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না আমাদের কোন বিষয়টায় মানুষের এত আপত্তি ছিল। সম্ভবত আমাদের ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ধর্ম এবং বয়সের ব্যবধানটাই অনেকের চোখে লেগেছে।’
শুরুর দিকে এই ধরণের অবিরাম ট্রোলিং বা সমালোচনা যে বেশ কষ্টদায়ক ছিল, তা অকপটে স্বীকার করেছেন ‘দেশি গার্ল’। তবে তারা একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন। প্রিয়াঙ্কা জানান, বাইরের দিকে না তাকিয়ে তারা তখন শুধু একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়েছিলেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে এসবের কোনও গুরুত্ব নেই। ফলে এখন এই সমস্ত নেতিবাচকতা তাদের আর স্পর্শ করে না।
সাক্ষাৎকারে এক চমকপ্রদ তথ্য ফাঁস করেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি জানান, আলাপ হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় নিকের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন তিনি। আর এত দ্রুত সবটা হওয়ায় শুরুর দিকে খোদ প্রিয়াঙ্কার মনেই সংশয় জেগেছিল! নিকের অতিরিক্ত ভদ্রতা ও সততাকে প্রথম দিকে প্রিয়াঙ্কার মনে হয়েছিল এক ধরণের ‘অভিনয়’।
অভিনেত্রীর বয়ানে, ‘আমরা আলাদের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে খুব দ্রুত বিয়ে করে নিয়েছিলাম। তাই বিয়ের একদম শুরুতে আমি নিজেই জানতাম না যে নিকের এই স্বভাবটা আদৌ আসল কি না। আমার মনে হতো—সবটাই হয়ত একটা অভিনয় বা মুখোশ।’
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বামীর প্রতি সেই ভুল ধারণা কেটে গেছে প্রিয়াঙ্কার। স্বামী ও বাবা হিসেবে নিকের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘নিকের মধ্যে এক অদ্ভুত সততা রয়েছে, যা আমাকে প্রতিদিন অনুপ্রাণিত করে। বিনোদন দুনিয়ার মতো একটি পেশায়, যেখানে প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি অনুযায়ী মুখোশ বদলাতে হয়, সেখানেও ও সবসময় সৎ। নিক খুব ছোট বয়স থেকে কাজ করছে। ওর বাবা-মা অত্যন্ত ভালো এবং মাটির মানুষ, তাই ওর স্বভাবের এই নম্রতা কোথা থেকে এসেছে তা আমি বুঝতে পারি।’