মিসর সম্পর্কে যে সুসংবাদ দিয়েছেন নবীজি

হাজার বছরের ইতিহাস ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন জনপদ। নাম মিসর। নীল নদের তীরে গড়ে ওঠা এই উর্বর ভূমি নিয়ে যুগে যুগে অনেক চর্চা হয়েছে। তবে মুসলমানদের কাছে এর আবেদন একেবারেই ভিন্ন। কারণ, এই পুণ্যময় ভূখণ্ড নিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের কাছে এক অভাবনীয় সুসংবাদ দিয়েছিলেন।

কোরআনের আয়াত এবং রাসুল (সা.)-এর অমূল্য বাণীর মাধ্যমে যেভাবে এই দেশটির অনন্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা আজও সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

পবিত্র কোরআনে বেশ কয়েকটি আয়াতে সরাসরি মিসর শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআনে বর্ণিত এই নিরাপদ জনপদেই হজরত ইউসুফ (আ.) এবং হজরত মুসা (আ.)-এর মতো মহান নবীদের জীবনের অসংখ্য তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। মহান আল্লাহর সঙ্গে মুসা (আ.)-এর ঐতিহাসিক কথোপকথন এই দেশের মাটিতেই হয়েছিল।

মহানবী (সা.) তার জীবদ্দশাতেই সাহাবিদের কাছে এই দেশ বিজয়ের সুস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। সহিহ মুসলিমের হাদিসে তিনি বলেছেন, শীঘ্রই তোমরা এমন একটি ভূখণ্ড বিজয় লাভ করবে, সেখানে কিরাতের (মুদ্রা) প্রচলন আছে। তোমরা সেখানকার অধিবাসীদের সঙ্গে সদাচরণ করবে, কেননা তোমাদের উপর তাদের প্রতি আছে জিম্মাদারী এবং আত্মীয়তা।

আলেমদের মতে, এই আত্মীয়তার ঐতিহাসিক সূত্রটি মূলত হজরত ইসমাইল (আ.)-এর মা হজরত হাজেরা (আ.) এবং রাসুল (সা.)-এর স্ত্রী মারিয়া কিবতিয়া (রা.)-এর মাধ্যমে স্থাপিত হয়েছে।

নবীজির সেই সুসংবাদ বাস্তবায়িত হয় দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে। ২০ হিজরিতে সাহাবি হজরত আমর ইবনুল আস (রা.)-এর নেতৃত্বে মিসর বিজিত হয়, যা উত্তর আফ্রিকায় ইসলাম প্রচারের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

মঙ্গোলদের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মুসলিম বিশ্বকে রক্ষায় মিসরের মামলুক বাহিনীর প্রতিরোধ এক যুগান্তকারী ঘটনা। অন্যদিকে, ৯৭০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় হাজার বছর ধরে ইসলামি জ্ঞানচর্চার বাতিঘর হিসেবে আলো ছড়াচ্ছে।