প্রবাস বিএনপিতেও ‘আওয়ামী অনুপ্রবেশ’!

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিএনপিতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা-বিতর্ক বাড়ছে। কেবল দেশের ভেতরে নয়, প্রবাসেও বিএনপির কর্মসূচি অথবা কমিটিতে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মী বা সমর্থকদের যুক্ত হওয়ার গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সময় তার কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বিএনপির প্রবাসী অনেক নেতাকর্মী।

বিএনপির এক যুগ্ম মহাসচিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি অংশ বিএনপিতে ঢুকে পড়েছেন। কিছু কিছু জায়গায় বিএনপির কেউ কেউ নিজের শক্তি বাড়াতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। মন্ত্রী-এমপিদের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার শেষে জয় বাংলা সেøাগান দিয়ে ভাইরাল হচ্ছেন অনুপ্রবেশকারী নেতাকর্মীরা। তবে বিষয়টি কেবল দেশের সীমানাতেই আটকে নেই, বিদেশেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সময় সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে দেখা গেছে। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।’

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিকবার অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘সতর্ক না হলে হাপিত্যেশ করে পস্তাতে হবে।’ অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সাবধান করে তিনি বলেছেন, ‘জনগণের পাশে না থাকলে মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ জুন মালয়েশিয়া সফর করেন। প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেই সেখানকার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১১ টায় কুয়ালালামপুরের হোটেল সাংগ্রিলায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। এ সময় সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান তার সঙ্গে ছিলেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অভিযোগ ওঠে মতবিনিময় সভায় প্রবাসের বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ঢুকে পড়েন। তাদের মধ্যে মোহাম্মাদ এবাদাত হোসেন নামে আওয়ামী লীগের এক নেতা ছিলেন। এ ছাড়া কুয়ালালামপুর মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. রমজান মতবিনিয়ম কর্মসূচিতে ছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী থাকার বিষয়টি পরে মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী বাদলুর রহমান খান স্বীকার করেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকব।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মালয়েশিয়া বিএনপির এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের অনেক প্রবাসী সমর্থক দেশে নিজেদের ব্যবসা, অবস্থান রক্ষা অথবা আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে বিএনপির রাজনীতিতে খোলসে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছেন।’

তার অভিযোগ, আর্থিক সুবিধা বা অন্য কোনো প্রভাবের কারণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও এখন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়ে যাচ্ছেন। এতে করে দলের ভেতরে এক ধরনের ক্ষোভ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল তৈরি হচ্ছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বারবার অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রবাসের কমিটিগুলোর ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে তারপরেও অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকানো যাচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময়েও অনুপ্রবেশকারীদের তৎপরতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ জুন চীনের দানিয়ালে যান। সেখানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর বার্ষিক সভায় (২০২৬ সামার দাভোস ফোরাম) যোগ দেন। সেখানে দুইদিন অবস্থান করে চীনের বেইজিংয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করেন। ২৬ জুন বিকেলে তিনি ঢাকার উদ্দেশে চীন ছাড়েন। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরেও তার আশপাশে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।