টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণিঝড় চীনের কয়েকটি অঞ্চলে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে। অত্যন্ত বৈরী আবহাওয়ার জেরে গত কয়েক দিনে দেশটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ ব্যক্তি। নিখোঁজ আছেন আরও নয়জন। গতকাল মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, দেশটির মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত হুবেই প্রদেশেই ১১ জন মারা গেছেন, নিখোঁজ আছেন একজন। হুবেই প্রদেশের- হুয়াংশি, হুয়াংগাং, এঝৌ এবং শিয়াননিং শহরের ওপর দিয়ে গত সোমবার গভীর রাতে ঘণ্টায় ১৪৯ কিলোমিটার বেগে তীব্র ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার শিকার হয়ে দক্ষিণের গুয়ানজি প্রদেশে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং সেখানে আটজন নিখোঁজ আছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ‘সর্বাত্মক’ উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে, চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গানসুর একটি পার্বত্য কাউন্টিতে ভূমিধসের এক ঘটনায় অন্তত ১৬ জন মাটিচাপা পড়েছেন। দেশটির আরেক রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার থানছাং কাউন্টির এক পাহাড়ি গ্রামে এ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ভূমিধসের পর মোট ৩৩ জন মাটিচাপা পড়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বাকি ১৬ জন তখনো মাটির নিচে আটকা পড়েছিলেন। স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষ আটকাপড়াদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
তবে কী কারণে ভূমিধসের এ ঘটনা ঘটেছে তা পরিষ্কার হয়নি। এই পার্বত্য এলাকাটি খাড়া ঢালের উপত্যকা আর ভেতর দিয়ে একেঁবেঁকে বয়ে যাওয়া নদীর কারণে হড়কা বান ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতি দুর্যোগপ্রবণ বিশেষভাবে বর্ষাকালে। স্থানীয় সরকারের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ভারী বৃষ্টির পর এই অঞ্চলে অনেকগুলো ভূমিধসের ঘটনা রেকর্ড করা হয়। ২০২০ সালের আগস্টে এক ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এ ভূমিধসের ঘটনায় ১২১ কোটি ডলার সমমূল্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
চীনের আবহাওয়াবিদরা দেশের বেশ কিছু অংশে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছেন, সেসব অঞ্চলে প্রায় বিশ কোটি মানুষের বসবাস রয়েছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গুয়াংশি এবং পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু ও শানডং প্রদেশে ২৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে; যা নতুন করে ভূমিধস ডেকে আনতে পারে। এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণের কিছু এলাকায় টর্নেডো আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই আবহেই সুপার টাইফুন বাভি নিয়ে চরম সতর্ক অবস্থায় রয়েছে চীন, যা প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।