শ্রোতা-দর্শকের মনে বেঁচে আছেন

সুরের জাদুকর আলম খান

১৯৪৪ সালে সিরাজগঞ্জের বানিয়াগাতি গ্রামে জন্ম নেওয়া আলম খান ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্র সংগীতের এক অবিসংবাদিত রূপকার। বাবা আফতাবউদ্দিন খান ও মা জোবেদা খানমের সন্তান আলম খান ষাটের দশকে প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক রবিন ঘোষের সহকারী হিসেবে ‘তালাশ’ (১৯৬৩) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর ১৯৭০ সালে আবদুল জব্বার খানের ‘কাঁচ কাটা হীরে’ সিনেমার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ সংগীত পরিচালক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে।

পরবর্তী কয়েক দশকে তিনি উপহার দিয়েছেন অজস্র কালজয়ী গান। ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ওরে নীল দরিয়া’, ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো’, ‘কি জাদু করিলা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’ কিংবা ‘চুমকি চলেছে একা পথে’ এ রকম অসংখ্য জনপ্রিয় গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮২ সালে ‘বড় ভালো লোক ছিল’ সিনেমার জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। এরপর ‘তিন কন্যা’ (১৯৮৫), ‘সারেন্ডার’ (১৯৮৭), ‘দিনকাল’ (১৯৯২), ‘বাঘের থাবা’ (১৯৯৯) ও ‘এবাদত’ (২০০৯) সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক এবং ২০০৮ সালে ‘কি জাদু করিলা’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।

রুপালি পর্দার মা শর্মিলী আহমেদ

১৯৪৭ সালের ৮ মে রাজশাহীতে মাজেদা মল্লিক হিসেবে জন্ম নেওয়া শর্মিলী আহমেদ মাত্র চার বছর বয়সেই অভিনয়ে যুক্ত হন। রাজশাহী বেতারের এই শিল্পী ষাটের দশকে রুপালি পর্দায় যাত্রা শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘ঠিকানা’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও ছবিটি মুক্তি পায়নি। পরে সুভাষ দত্তের ‘আলিঙ্গন’, ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ এবং ‘আবির্ভাব’ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি।

চলচ্চিত্র পরিচালক ও স্বামী রকিবউদ্দিন আহমেদের ‘পলাতক’ ছবিতেও তিনি অভিনয় করেছিলেন। ক্যারিয়ারে পাঁচ শতাধিক নাটক ও শতাধিক চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করা এই কিংবদন্তি ১৯৭৬ সালে মোহাম্মদ মহসিন পরিচালিত ‘আগুন’ নাটকে প্রথমবার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর আশি ও নব্বইয়ের দশকে তিনি পর্দায় এতটাই সাবলীলভাবে মাতৃত্বকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যে, বিনোদন অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি ‘শর্মিলী মা’ হিসেবে পরিচিতি পান।

পর্দায় ব্যস্ততম অভিনেত্রী হলেও ব্যক্তিজীবনে শর্মিলী আহমেদ ছিলেন একজন সফল গৃহিণী ও মা। সংসার ও অভিনয়, দুটিই সমান দক্ষতায় সামলেছেন।

বাংলা সংস্কৃতিতে আলম খান ও শর্মিলী আহমেদের অবদান কখনো ভোলার নয়। সৃষ্টি আর কর্মের মধ্য দিয়ে তারা চিরকাল বেঁচে থাকবেন সবার হৃদয়ে।