বিশ্বকাপে আজ বিরতি

উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপের পর্দা ওঠে গত ১১ জুন। এরপর টানা প্রায় চার সপ্তাহ ফুটবল উৎসবে মেতেছিল বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থক। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী প্রতিদিন গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত চলেছে ম্যাচের রোমাঞ্চ। তবে শেষ ১৬-এর লড়াই শেষে টুর্নামেন্টে একদিনের বিরতি পড়েছে। আজ ৮ জুলাই, কোনো ম্যাচ নেই বিশ্বকাপের। কোয়ার্টার ফাইনাল শুরুর আগে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সুযোগ করে দিতেই এমন সিদ্ধান্ত ফিফার।

গ্রুপ পর্ব, শেষ ৩২ ও শেষ ১৬ মিলিয়ে বিশ্বকাপে ৯৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি আছে ৮টি। কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি, সেমিফাইনালের দুটি, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এবং ফাইনাল। এবারের আসরে মোট ম্যাচ সংখ্যা ১০৪টি। যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সময়ের মারপ্যাঁচে বাংলাদেশের দর্শকদের রাতজাগা ছিল নিত্যসঙ্গী। অধিকাংশ খেলা মাঠে গড়িয়েছে রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে। সব থেকে বেশি ম্যাচ হয়েছে রাত ২টায়। ম্যাচসংখ্যার দিক থেকেও ছিল বৈচিত্র্য। গ্রুপ পর্বের ব্যস্ততম দিনগুলোতে বাংলাদেশ সময়ে এক দিনে সর্বোচ্চ ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সেই ব্যস্ততার ধারাবাহিকতায় এসেছে একমাত্র পূর্ণ বিরতি।

আগামীকাল আবার ফিরবে বিশ্বকাপের উত্তাপ। ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেললেও এবার শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়েকে হারাতে ভুগতে হয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের। সেমিফাইনালের রাস্তাও সহজ হবে তাদের। এ ম্যাচের আগে ফ্রান্স শিবিরে দুশ্চিন্তা। মার্কাস থুরাম চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরলেও, অরেলিয়াঁ চুয়ামেনিকে নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। কার্ড সমস্যায় মাইকেল ওলিসে খেলতে পারবেন না। যদিও দেশটির ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে আবেদন করবে।

মাঠের লড়াইয়েও মরক্কোর বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে বলে মনে করছেন ফ্রান্সের সহকারী কোচ গি স্টিফোঁর, ‘সম্প্রতি আমরা যে দলগুলোর মুখোমুখি হয়েছি, তাদের চেয়ে মরক্কো পুরোপুরি ভিন্ন। তারা গোছাল, সুসংগঠিত, দৃঢ়তাসম্পন্ন এবং পাল্টা আক্রমণে পারদর্শী। ডানে-বামে যেদিকেই বলুন, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনির্ভর খেলোয়াড় আছে মরক্কোয়। নিঃসন্দেহে মানসম্পন্ন একটি দল তারা।’ তবে সর্বশেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় পেলেও শারীরিক শক্তিনির্ভর ফুটবল খেলা দলকে হারানোয় নিজেদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বলে দাবি স্টিফোঁর, ‘টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এ ধরনের ম্যাচ খেলা আমাদের জন্য ফলপ্রসূ হয়েছিল। এই ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়রা কী করতে পারে, সে উত্তরটা আমরা পেয়ে গেছি।’