প্রযুক্তির ‘অপব্যবহারে’ ফিফার কাছে অভিযোগ ক্রোয়েশিয়ার

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৬ এএম

ফুটবল মাঠে প্রযুক্তির ছোঁয়া নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে সেই প্রযুক্তি যখন কোনো দলের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে নির্মমভাবে গুঁড়িয়ে দেয়, তখন বিতর্ক রূপ নেয় ক্ষোভে। পর্তুগালের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর, এবার মাঠের লড়াই ছেড়ে টেবিলের লড়াইয়ে নেমেছে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে একটি গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার’ আখ্যা দিয়ে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এইচএনএস)।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তের যোগ করা সময়ে জোসকো গার্দিওলের গোলে ম্যাচে সমতায় ফেরার পথেই ছিল ক্রোয়েশিয়া। মাঠে থাকা রেফারি প্রথমে গোলের বাঁশিও বাজিয়েছিলেন। কিন্তু নাটকীয়তার তখনো বাকি ছিল। টেলিভিশনের সাধারণ রিপ্লেতে গোলটি সম্পূর্ণ বৈধ মনে হলেও, ভিএআর প্রযুক্তির দীর্ঘ রিভিউয়ের পর রেফারি গোলটি বাতিল করেন। ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ম্যাচের অফিশিয়াল বল ‘অ্যাডিডাস ট্রিওন্ডা’-র ভেতরে থাকা আইএমইউ সেন্সর ইগর মাতানোভিচের চুলের একটি অতি ক্ষুদ্র স্পর্শ শনাক্ত করেছে, যা অফসাইডের পুরো সমীকরণ বদলে দেয়। ব্রডকাস্টে ‘হার্টবিট গ্রাফিক’ হিসেবে দেখানো এই সূক্ষ্ম ডাটা দিয়েই ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্ন ভাঙা হয়।

ক্রোয়েশিয়ার দাবি, ভিএআর-এর মূল স্পিরিট ছিল ‘স্পষ্ট ও ভুলাতীত’ সিদ্ধান্ত নেওয়া, কিন্তু এখানে এমন এক অদৃশ্য ডাটার ওপর নির্ভর করা হয়েছে যা মাঠে থাকা খেলোয়াড় বা গ্যালারির দর্শকদের পক্ষে রিয়াল টাইমে বোঝা অসম্ভব। এছাড়া ৬৮ মিনিটে পর্তুগালকে দেওয়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। এইচএনএস মুখপাত্র তোমিসøাভ প্যাচাক সরাসরি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে চিঠি পাঠানোর কথা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তির বিরোধী নই, তবে এর প্রয়োগ ফুটবল ও ভক্তদের কোনো উপকারে আসছে না। এই ভুল প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা ফিফার কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাই।’

অধিনায়ক লুকা মদ্রিচও এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রযুক্তির ব্যবহারে দ্বিমুখী নীতি স্পষ্ট এবং বড় দলগুলোর তুলনায় তাদের মতো দেশগুলো প্রায়ই এমন উচ্চ-স্নায়ুর ম্যাচে অবিচারের শিকার হয়। রেফারি ও প্রযুক্তির এই জটিল বেড়াজালে ক্রোয়েশিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ মিশন হয়তো শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু ফুটবল মাঠে ‘অদৃশ্য প্রযুক্তির’ এই অতি-হস্তক্ষেপ বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত