ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মহাকাব্যিক বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের সমাপ্তি যেমন বেদনাদায়ক ছিল, ঠিক তেমনি এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক নির্মম ও অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এ গোলমেশিন ক্যারিয়ারে ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও আসরগুলোর মূল নকআউট পর্বে (শেষ ১৬ বা তার পরবর্তী ধাপ) কখনোই কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি।
স্পেনের বিপক্ষে মঙ্গলবারের ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপের মূল নকআউট পর্বে রোনালদোর ৯ম ম্যাচ। এ ৯ ম্যাচে মোট ৬৫৯ মিনিট মাঠে কাটিয়েও ‘সিআর সেভেন’ জালের দেখা পাননি। পাননি কোনো অ্যাসিস্টের স্বাদও। ২০২৬ বিশ্বকাপে অবশ্য নকআউট পর্বে তিনি একটি গোল করেছিলেন (ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে), তবে সেটি ছিল নতুন নিয়মে প্রবর্তিত ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা শেষ বত্রিশের ম্যাচে, যা মূলত পূর্বের আসরগুলোর গ্রুপ পর্বের সমতুল্য। শেষ ১৬ বা তার পরের মূল লড়াইয়ে তিনি বরাবরের মতোই গোলহীন রয়ে গেছেন।
ছয়টি বিশ্বকাপের দীর্ঘ পথচলায় রোনালদো মাত্র দুবার শেষ ১৬-এর বৈতরণী পার হতে পেরেছিলেন। প্রথমবার ২০০৬ সালে, যখন তরুণ উইঙ্গার হিসেবে পর্তুগালকে চতুর্থ স্থানে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখেন। আর দ্বিতীয়বার ২০২২ সালে, তবে সেবার নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে তাকে শুরুর একাদশে না রেখে গনজালো রামোসের বিকল্প হিসেবে খেলানো হয়েছিল। বাকি আসরগুলোর মধ্যে ২০১৪ সালে পর্তুগাল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় এবং ২০১০, ২০১৮ ও ২০২৬ সালে তাদের যাত্রা থামে এই শেষ ১৬-র মঞ্চেই।
মজার বিষয় হলো রোনালদোর খেলা এই ৯টি নকআউট ম্যাচের মধ্যে পর্তুগাল নির্ধারিত ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে মাত্র দুটি ম্যাচ জিততে পেরেছিল। আর এই দুটি ম্যাচই ছিলÑ২০০৬ সালে নেদারল্যান্ডস ও ২০২২ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে, যে ম্যাচগুলোতে রোনালদো মাঠে সবচেয়ে কম সময় কাটিয়েছিলেন। বাকি ম্যাচগুলোর মধ্যে একটিতে টাইব্রেকারে জয় (২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে) এবং বাকি ছয়টিতেই হারের মুখ দেখতে হয়েছে পর্তুগালকে।
তবে নকআউটের এই চরম হতাশা সত্ত্বেও বেশ কিছু অনন্য রেকর্ড নিজের করে নিয়েই বিশ্বকাপকে বিদায় জানিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এ মহাতারকা। তিনি পর্তুগালের কিংবদন্তিইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন। এ ছাড়া ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে চতুর্থ বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় এবং দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা (৪১ বছর ১৪৭ দিন) হিসেবেও নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।