চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অপ্রতুল ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বছরের পর বছর জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়ছেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বেশি ভোগান্তি হচ্ছে। এলাকাবাসী এর স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উপজেলার নালা-নর্দমা ও জলাশয় দখল, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুম এলেই একই ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা জানান, উপজেলা সদর থেকে শুরু করে ব্যস্ততম হাটবাজারগুলোর একটি সড়কও জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কগুলোয় হাঁটুপানি জমে যায়। দীর্ঘ সময় দূষিত পানি জমে থাকায় পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা বাড়ছে। অনেকেই চর্মরোগসহ খোঁস-পাচড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিকার চেয়ে উপজেলা প্রশাসনকে বারবার তাগিদ দিলেও ফল মিলছে না।
নতুন সরকারের কাছে তাদের দাবি, এ দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
জানা গেছে, অল্প বৃষ্টিতেই উপজেলা সদরসহ ঐতিহ্যবাহী রুস্তম হাট, চাতরী চৌমুহনী বাজার, বন্দর কমিউনিটি সেন্টার, ভিংরোল ছত্তার হাট, জুঁইদণ্ডী, চৌমুহনী, রায়পুর ওয়াহেদ আলী হাটসহ অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
বটতলী রুস্তম হাটের ব্যবসায়ী ফেরদৌস হোসেন বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাদ্ধতার কারণে দোকান থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ভারি বর্ষণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। তিনি জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
চাতরী চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্য মো.মনছুর বলেন, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নতুন আউটফল নির্মাণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার নিশ্চিত করা না হলে ব্যস্ততম এ বাণিজ্যিককেন্দ্র জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না। আমরা চাই দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হোক। নতুন সরকারের কাছে এ উপশহরকে নাগরিক সুবিধা দেওয়ার জন্য তিনি দাবি জানান।
আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী বলেন, অনেক এলাকায় বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ড্রেনগুলোর সঙ্গে প্রধান নালার সংযোগও অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন। বক্স-কালভার্ট ও ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। এছাড়া রাস্তা নির্মাণের সময় ওয়াটার লেভেল বিবেচনা না করাও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের (সওজ) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল নোমান পারভেজ বলেন, যেসব এলাকায় বেশি পানি জমছে সেখানে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়রা জায়গা না ছাড়াতে কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে এ অর্থবছরে পানি নিষ্কাশনে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মহিন উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও পরে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও সাড়া না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।