‘দ্য ক্রাই বেবি’ স্কালোনির কোচ হওয়ার সার্থকতা

মাঠের সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে তখনো হয়তো নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না লিওনেল স্কালোনি। ড্রেসিংরুমে ফেরার পর যখন ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন আর আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না বিশ্বজয়ী এই মাস্টারমাইন্ড। দুইজনেরই চোখ দিয়েই তখন ঝরছে আনন্দের জল।

ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র ১১ মিনিট আগেও যে দলটির বিদায়ঘণ্টা বাজছিল, সেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাই কি না অবিশ্বাস্য এক রূপকথা লিখে ৩-২ ব্যবধানে মিশরকে হারিয়ে পা রাখল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। অনন্য এই প্রত্যাবর্তনের পর মাঠের পর ড্রেসিংরুমেও চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি আলবিসেলেস্তেদের হেড কোচ। সব সময়ই এমন হুটহাট কেঁদে ফেলার অভ্যাসের কারণে দলের ফুটবলাররা অবশ্য তাকে আগে থেকেই মজা করে ‘দ্য ক্রাই বেবি’ বলে ডাকেন। ড্রেসিংরুমের সেই চেনা উপাধি সঙ্গী করেই আরও একবার খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুললেন এই কোচ।

খেলার প্রায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণ করেও যখন মিসরের রক্ষণ ভাঙা যাচ্ছিল না, এমনকি প্রথমার্ধে খোদ মেসিও পেনাল্টি মিস করে বসেন, তখন খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু নাটকীয়তার তখনো অনেক বাকি ছিল। ম্যাচের শেষ ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর গোল দিয়ে শুরু, এরপর মেসির সমতাসূচক গোল এবং একদম শেষ মুহূর্তে ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজের করা জয়সূচক গোল আর্জেন্টিনাকে এনে দেয় এক অবিশ্বাস্য জয়। আগের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের কঠিন লড়াইয়ের পর মিসরের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্সকে দলের অনেক বড় উন্নতি হিসেবে দেখছেন স্কালোনি।

ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমের সেই আনন্দ আর কান্নার আবহের কথা জানিয়ে স্কালোনি গণমাধ্যমের সামনে বলেন, ‘আমি সবসময়ই একটু বেশি আবেগপ্রবণ। ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পর আমাদের সবার চোখেই জল ছিল। ছেলেরা তো মজা করে আমাকে 'ক্রাই বেবি' (কান্নাকাটি করা লোক) বলেও ডাকে, কিন্তু আমি ওসবে পাত্তা দিই না। আমরা যারা ২০ বছর ফুটবল খেলেছি, তাদের জন্য আজকের এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার মনে হয়, এমন আবেগ আর অ্যাড্রেনালিনের খোঁজে এবং এমন দিনের সাক্ষী হতেই সাবেক ফুটবলাররা পরে কোচিং পেশায় আসেন।’

দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পরও দলের ওপর ভরসা হারাননি স্কালোনি। ৩৯ বছর বয়সেও যেভাবে মেসি গোল ও অ্যাসিস্ট করে দলকে টেনে তুললেন, তা দেখে মুগ্ধ কোচ বলেন, ‘মেসি এখনো শুধু এই বিশেষ মুহূর্তগুলোর জন্যই ফুটবল খেলে। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসেও ও যেভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, তা অবিশ্বাস্য। আজকের রাতটা আমাদের জন্য আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই দলটার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—পরিস্থিতি যতই প্রতিকূলে যাক না কেন, এরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস হারায় না।’