আর্জেন্টিনা ম্যাচে যে কারণে সালাহকে পেনাল্টি দেননি রেফারি

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ এএম

বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের মহাকাব্যিক জয়টি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। তবে ম্যাচের যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের করা জয়সূচক গোলের বিল্ড-আপে মোহামেদ সালাহ বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় বিতর্কের ঝড় বইছে। কিন্তু ফিফার অফিশিয়াল নিয়ম, ম্যাচের ভিডিও রিপ্লে বিশ্লেষণে ভিন্ন এক সত্য উন্মোচিত হয়েছে।

ম্যাচের ৯২ মিনিটে যখন মোহামেদ সালাহ বল নিয়ে আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন, ঠিক তখনই চ্যালেঞ্জ জানান আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেজ। 

ফাউল নির্ধারণের প্রথম এবং প্রধান বেসিক হলো ‘কে আগে বল স্পর্শ করেছে’। ছবি ও রিপ্লেতে স্পষ্ট, বক্সে ঢোকার পর আলভারেজ সালাহর আগে বলে পা ছুঁইয়েছেন।

আলভারেজের টাচের ফলে বলটি সালাহর পায়ের ফাঁক দিয়ে (নাটমেগ হয়ে) পেছনে চলে যায় এবং সালাহ বলের নিয়ন্ত্রণ হারান।

বল হারানোর পর রানিং মোশনে থাকা সালাহ তার পা আলভারেজের গোড়ালির সামনে ফেলেন এবং আলভারেজ তার পা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও দুজনের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষ ঘটে।

ঘটনার মুহুর্ত ভিডিও রিপ্লে থেকে

ফিফার স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ডিফেন্ডার যদি পরিষ্কারভাবে আগে বল জিতে নেন, তবে তার পরবর্তী স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শ বা খেলোয়াড়দের পায়ে পা জড়িয়ে যাওয়াকে ফাউল বলা হয় না, এটি চ্যালেঞ্জের একটি স্বাভাবিক অনুষঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়। উল্টো এখানে সালাহই আলভারেজের পায়ে পা বাড়িয়েছিলেন, যার ফলে রেফারি ফাউল ডাকলে সেটি সালাহর বিপক্ষেই যেত।

সালাহ যখন বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন, তখন তিনি পেনাল্টি পাওয়ার উদ্দেশ্যে কিছুটা শরীর ছুঁড়ে দিয়ে ডাইভ দেওয়ার চেষ্টা করেন। যেহেতু আলভারেজের ট্যাকলটি সম্পূর্ণ বৈধ ছিল, তাই ভিএআর  অফিশিয়ালরা এতে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন মনে করেননি এবং মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখেন।

একই ঘটনা ঘটেছে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর পাওয়া পেনাল্টির ক্ষেত্রেও। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারত তাগলিয়াফিকো ফাউল করেছেন, কিন্তু ভিএআর চেকে দেখা গেছে বলে আগে আলভারেজের সতীর্থ তাগলিয়াফিকোই টাচ করেছিলেন। ফলে নিয়মানুযায়ী ফাউলটি আর্জেন্টিনার পক্ষেই যায়।

ম্যাক অ্যালিস্টারের জার্সি টানার ঘটনা এবং অন্য বিতর্ক

ম্যাচের অন্য একটি ইনসিডেন্টে দেখা যায় মিশরের ফাতির শার্ট ধরে টেনেছিলেন ম্যাকঅ্যালিস্টার। তবে রেফারি এবং ভিএআর তা এড়িয়ে যান, কারণ সেখানে বল ছিল না এবং ম্যাচ অফিশিয়ালদের দৃষ্টিতে এটি পেনাল্টি দেওয়ার মতো ‘ক্লিয়ার অ্যান্ড অবভিয়াস এরর’ ছিল না। আর্জেন্টিনা সেখান থেকেই ডিপ লং পাসে বল ক্লিয়ার করে কাউন্টার অ্যাটাকে যায় এবং গোলটি পায়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত