টানা সাড়ে আট ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি, হাটবাজার ও নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময় ময়মনসিংহে ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরে জেলার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, রাত সাড়ে ১২টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সাড়ে আট ঘণ্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি বছরে ময়মনসিংহ জেলার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
বুধবার সকালে নগরীর, হামিদ উদ্দিন রোড, সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড়, কেওয়াটখালী, ভাটিকাশর, সেহড়া ও ধোপাখলাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সড়কে হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ড্রেনের নোংরা পানি ঢুকে পড়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কয়েকটি এলাকায় অটোরিকশা চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাদমান সাকিব বলেন, রাস্তায় হাঁটুপানি থাকায় অনেক কষ্ট করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছেছি। যানবাহন না পাওয়ায় সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম।
ভাটিকাশর এলাকার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, প্রতি বর্ষাতেই একই চিত্র দেখা যায়। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল এবং ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
হামিদ উদ্দিন রোডের বাসিন্দা কালাম বলেন, ড্রেন পরিষ্কার না থাকায় ঘরে পানি ঢুকে আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। প্রতিবছরই একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
চরপাড়া মোড় এলাকায় রোগী নিয়ে আসা হালুয়াঘাট থেকে আসা ফরিদ বলেন, হাঁটুপানির কারণে কয়েকশ মিটার পথ পাড়ি দিতেই এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। হাসপাতাল এলাকায়ও পানি জমে থাকায় রোগী নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছি।
বাগমারা এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারছে না। অনেক জায়গায় রাস্তার চেয়ে ড্রেন উঁচু হওয়ায় উল্টো ড্রেনের পানি রাস্তায় উঠে আসছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি ইয়াজদানী কোরাইশী কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিকল্প নেই।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৬২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীতে ৩২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময় শেষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনুজ্জামান সরকার জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে পানি নামতে শুরু করেছে। যেসব এলাকায় এখনো পানি জমে আছে, সেগুলো থেকে দ্রæত পানি নিষ্কাশনে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণেও পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। নগরবাসীকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।