বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ফুটবল মাঠে প্রযুক্তি ও রেফারিংয়ের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আন্তর্জাতিক বিতর্ক। ম্যাচের ফুটবলীয় লড়াইকে ছাপিয়ে এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি-এর বিতর্কিত ও অসঙ্গতিপূর্ণ প্রয়োগ। এই ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ফুটবল ও ক্রীড়াবিশ্বের একাধিক হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্ব।
ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারার এই ম্যাচ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, "হয় দুটোই ফাউল ছিল, না হলে একটাও ফাউল ছিল না। কিন্তু তারা তো আমাদের বলেছিল যে তারা মাঠে এসে নতুন করে রেফারির ভূমিকা পালন করবে না।" শিয়ারারের এই মন্তব্য মূলত মিশরের বাতিল হওয়া গোল এবং পরবর্তীতে পেনাল্টি না পাওয়ার অসঙ্গতিপূর্ণ সিদ্ধান্তকেই নির্দেশ করে।
রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ এবং বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ট্যাকটিশিয়ান হোসে মরিনহো এই রেফারিংকে সরাসরি "দিনেদুপুরে ডাকাতি" বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর্জেন্টিনার প্রতিটি মুভমেন্ট বা ঘটনা যেভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করা হয়েছে, সেই তুলনায় মিসর কেন একই রকম সুবিধা পেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দ্য স্পেশাল ওয়ান খ্যাত কোচ
"আপনি যখন এই আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে খেলবেন, তখন ২-০ গোলে এগিয়ে থাকাও যথেষ্ট নয়। কারণ, আপনি মাঠে শুধু এগারো জন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন না। আপনাকে লড়তে হচ্ছে রেফারির বাঁশির বিরুদ্ধে, লড়তে হচ্ছে ভিএআর রুমের বিরুদ্ধে, এমনকি আপনাকে লড়তে হচ্ছে পুরো টুর্নামেন্টের লিখে রাখা স্ক্রিপ্টের বিরুদ্ধে।"
ফুটবল অঙ্গনের বাইরে থেকেও এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন দাবার গ্র্যান্ডমাস্টার এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক গ্যারি কাসপারভ। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন,
"মিসরের একটি অবিশ্বাস্য গোল বাতিল করে দেওয়া হলো অনেক দূরবর্তী এক ফাউলের অজুহাতে। অথচ এর ঠিক কয়েক মিনিট পর একই পরিস্থিতি তৈরি হলেও আর্জেন্টিনার গোলটি কিন্তু বাতিল করা হলো না।"
ফিফা তাদের টুর্নামেন্টের বড় বড় তারকাদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য পক্ষপাতিত্ব করছে অভিযোগ তুলে কাসপারভ বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাকে একটি "দুর্নীতিগ্রস্ত তামাশা" বলে কঠোর সমালোচনা করেন।