দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে আত্মহত্যা করা এক কিশোরীর সৎকার চলাকালেই জেলার সদর উপজেলার আত্রাই নদীর তীরে গাছের ডালে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তার প্রেমিক।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর রনগাঁও ইউনিয়নের শ্রীমহন্তপুর গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে প্রিয়া রানী দাসের (১৬) মরদেহ নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
অন্যদিকে, একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার ৫ নম্বর শশরা ইউনিয়নের উমরপাইল জালিয়াপাড়া এলাকায় আত্রাই নদীর ধারে একটি গাছ থেকে কাকন রায় রাহুলের (১৭) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি বোচাগঞ্জ উপজেলার একই গ্রামের বাসিন্দা এবং গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রিয়া ও কাকনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কয়েকদিন আগে বিষয়টি দুই পরিবারের জানাজানি হলে তারা এ সম্পর্কের বিরোধিতা করেন। এরই মধ্যে সোমবার রাতে প্রিয়া নিজ বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে তার সৎকার সম্পন্ন করা হয়।
এদিকে কাকন তার নানা নেপাল চন্দ্র রায়ের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাইরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির সামনের আত্রাই নদীর তীরের একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান।
৫ নম্বর শশরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির আনাফ বলেন, প্রিয়ার মৃত্যুর খবর কাকন জানতেন। মেয়েটির সৎকার চলাকালেই তিনি গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রিয়া রানী দাসের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরনবী জানান, কাকন রায় নামে এক তরুণ আত্মহত্যা করেছে। সে তার গ্রামের এক মেয়েকে পছন্দ করত। ওই মেয়ে আত্মহত্যা করায় কাকন রায়ও আত্মহত্যা করেছে।