রূপালী ব্যাংকে নিয়োগে অনিয়ম

২০১৪ সালে রূপালী ব্যাংকে ৮০১ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নথিপত্র সংগ্রহ ও যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে সংস্থাটি। দুদকের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত ১৪ জনের অনিয়মে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে নিয়োগের প্রতিটি ধাপ, প্রার্থীদের শিক্ষাগত সনদ, বোর্ডের অনুমোদন ও জাল সনদের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে দুদক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রূপালী ব্যাংকে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ এবং গৃহনির্মাণ ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কমিশন আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আজগর হোসেন ও উপসহকারী পরিচালক মো. ইয়াসিন মোল্লার সমন্বয়ে দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠায় দুদক।

চিঠিতে ২০১৪ সালে সিনিয়র ও জুনিয়র অফিসারসহ ৮০১ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র ও মূল্যায়নপত্র, প্রতিটি ধাপের ফলাফল, নিয়োগ বোর্ডের অনুমোদন, নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা, আবেদনকারীদের দাখিল করা শিক্ষাগত সনদ, প্রবেশপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ড চাওয়া হয়।

এ ছাড়া, ২০১৪ সালে দায়িত্ব পালনকারী রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা চাওয়া হয়। কোনো ব্যক্তি জাল সনদের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন কি না জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি, সংশ্লিষ্ট রেকর্ড এবং রূপালী ব্যাংকের পাঠানো প্রতিবেদনও তলব করা হয়।

নিয়োগ জালিয়াতি নিয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো তদন্ত হয়ে থাকলে তার প্রতিবেদনও চেয়েছে দুদক। ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিদেশ সফরকারী কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, বর্তমান কর্মস্থল ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিতেও অনুরোধ করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, রূপালী ব্যাংক অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট নথিপত্র কমিশনে জমা দিয়েছে। সেগুলোর যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া শুরু হয়েছে।

গত ২৯ জুন পাঠানো নোটিসের পর ৫ জুলাই প্রিন্সিপাল অফিসার তাপসী রায়, তানভীর আহমেদ চৌধুরী, মনির হোসেন, অমৃত কুমার বারুই ও আখেরুল ওয়ালিদ দুদকে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য দেন। এর আগে আরও পাঁচ কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। মোট ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ ও গৃহনির্মাণ ঋণ বিতরণসংক্রান্ত কয়েকটি অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গত ৫ জুলাই পাঁচজনকে ডাকা হয়েছিল। এর আগে আরও পাঁচজনের বক্তব্য নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, যেহেতু অভিযোগটি নিয়োগসংক্রান্ত, তাই সংশ্লিষ্টদের শিক্ষাগত সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। অনেকেই সনদ ও অন্যান্য নথি জমা দিয়েছেন। অনুসন্ধান কর্মকর্তা সেগুলো যাচাই করছেন।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত ১৪ জনের নাম জানা গেছে। অনুসন্ধানকালে আরও কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে। অনুসন্ধান শেষে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেবে।