অমর জেলিফিশ

‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে’ এমনটাই নিয়ম। কিন্তু কোনো প্রাণীর যদি মৃত্যুই না হয়? এমনটা কি সম্ভব! আসলে পৃথিবীর প্রাণিজগতে অসীম বৈচিত্র্য। প্রকৃতিকে আঁকড়ে আছে অনেক প্রাণী। যাদের শারীরিক গঠন, বেঁচে থাকার বিচিত্র ক্ষমতা মানুষকে চমকে দেয়। এদের মধ্যে গভীর সমুদ্রে হাজার বছর বেঁচে থাকা, ব্ল্যাক কোরাল বা গ্লাস স্পঞ্জ থেকে শুরু করে অ্যামাজনের বাল্ড উকারিসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী নিজের অনন্য  বৈশিষ্ট্যের জন্য বিস্ময়কর। কিন্তু জেলিফিশগুলো বয়সের শেষ সীমায় পৌঁছানোর পর, আবার জীবনচক্রের শুরুতে (পলিপ অবস্থায়) ফিরে যেতে পারে। মূলত এদের স্বাভাবিক মৃত্যু নেই। তারা অনির্দিষ্টকাল বেঁচে থাকে। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলেছেন পুরোপুরি না পারলেও প্রায় অমরত্ব লাভ করেছে এই সামুদ্রিক প্রাণী। এক অদ্ভুত প্রাণী টারিটোপসিস ডোরনি জেলিফিশ। ভূমধ্যসাগর ও জাপানের সমুদ্রে দেখা যায়, এই ধরনের টারিটোপসিস ডোরনি নামের জেলিফিস। জাপানের কিয়োতো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা খোঁজ করেছেন এই জেলিফিসের অমরত্ব রহস্য। তারা বলেন, কখনই বার্ধক্য আসে না ব্যাকওয়ার্ড এজিং জেলিফিশের। পলিপের আকারে দেহের চারপাশে মিউকাস মেমব্রেন তৈরি করে তারা। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সেরে উঠলেই পলিপ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে। বিজ্ঞানীরা এটা দেখে অবাক হন, পলিপ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা জেলিফিশগুলোর দেহের প্রায় সব কোষ নতুন ও সজীব। এভাবেই তারা নিজেদের বয়স কমিয়ে যৌবনে চলে আসে। জেলিফিশগুলো তিন দিনেই পলিপ অবস্থায় থেকে শরীরের সব কোষ পূর্ণাঙ্গভাবে রূপান্তর করে ফেলে।