বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের ম্যাচ দেখার সময় কুমিল্লায় মারধরের শিকার হয়ে এক অটোরিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরিফুল ইসলাম নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি কুমিল্লা নগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের মঠপুষ্করিণী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। এদিকে আর্জেন্টিনা-মিসরের ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের সাতজনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে ভর্তি করা হয়েছে মির্জাপুর কুমদিনী হাসপাতালে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার সদর উপজেলার ধনপুর এলাকার মহসিন মিয়ার দোকানে অনেক দর্শক আর্জেন্টিনা-মিসরের মধ্যকার ম্যাচটি দেখছিলেন। সেখানে অটোরিকশাচালক শরিফুলও ছিলেন। খেলা চলাকালে দুদলের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শরিফুলের সঙ্গে কয়েকজন তরুণের বাগ্বিত-া হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ওই সময় শরিফুলকে কিল-ঘুষি মারা হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, খেলা নিয়ে এলাকার কয়েক তরুণের সঙ্গে বাগ্বিত-ার জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে রাত ১০টার দিকে বিশ^কাপের খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগ্বিত-া শুরু হয়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাধে। পরবর্তী সময়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগে ফিরে গেলেও রাত ১টার দিকে আইসিটি, এফটিএনএস, পরিসংখ্যান ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৃতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের যৌথ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মনির মোর্শেদ বলেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষকরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।’