বেবিচকের সেই প্রকৌশলীর শাস্তি শুধু বদলি

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে ২৫ বছর চাকরি করার অভিযোগে আলোচিত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি, দুর্নীতি এবং সরকারি সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও শুধু বদলির সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠেছে।

বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এসএম লাবলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বুধবার বেবিচকের প্রশাসন বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তিরান হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে শরিফুল ইসলামকে বদলি করা হয়। সম্প্রতি দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শরিফুল ইসলামের ২০০১ সালে বাবার নামে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে বেবিচকের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়। পরে কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। 

অফিস আদেশ অনুযায়ী, সিভিল সার্কেল প্রকল্পে কর্মরত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামকে পিডিকিউ অ্যান্ড কিউএস সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ওই সার্কেলে সংযুক্ত রেখে পরিচালক (অ্যারোড্রাম স্ট্যান্ডার্ড), এফএস অ্যান্ড আর বিভাগে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

জানা যায়, সরকারি মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা ডেটাবেজে তার বাবার নাম নেই। তার চাকরিসংক্রান্ত নথিপত্র ঘেঁটে চারটি পৃথক মুক্তিযোদ্ধা সনদের তথ্য পাওয়া যায়। অভিযোগে বলা হয়, চারটি সনদে চার ধরনের তারিখ, ভিন্ন ভিন্ন স্মারক নম্বর এবং বিভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো সনদে জেনারেল এমএজি ওসমানী, কোনো সনদে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, কোনো সনদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্য একটি সনদে সেক্টর কমান্ডার আহাদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। অথচ সরকারি গেজেট ও জাতীয় ডেটাবেজে তার বাবার নাম না থাকায় সনদগুলোর বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয়। গত ১৬ জুন মন্ত্রণালয় থেকে বেবিচক চেয়ারম্যানকে পাঠানো চিঠিতে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়। শুধু জাল সনদের অভিযোগ নয়, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেবিচকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, কাওলা আবাসিক কোয়ার্টার রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও তদন্তও চলমান রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যেই তাকে শুধু এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে বদলি করা হলেও অভিযোগ বা তদন্তের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই প্রজ্ঞাপনে।