চকরিয়ায় পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যু, বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে পাহাড়ধসে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন. বরইতলী ইউনিয়নের আবদুল মজিদের ছেলে তৌসিফ উদ্দিন (১৩) এবং কাজলের মেয়ে রুমি আক্তার (১১)। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে তাদের বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে তারা মাটিচাপা পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় মাটির নিচ থেকে তাদের উদ্ধার করলেও ততক্ষণে দুজনই মারা গিয়েছিল। এ ঘটনায় একই এলাকার আব্দুল জলিলের স্ত্রী ও কন্যা আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে তিনি ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

তিনি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এদিকে, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যার পানি দ্রুত বিস্তার লাভ করায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক, ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট।

উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল এখনও বন্যার পানির নিচে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অতি প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।