স্কুল ফিডিং পরিদর্শনে পঁচা ডিম পেলেন ইউএনও

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং এর খাবার সরবরাহ করছেন সেই স্কুলের দপ্তরির স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের ভিতরে গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা ব্যবহার করে ডিম সিদ্ধ করা হচ্ছিল। এটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এ অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান ওই স্কুলে পরিদর্শনে গেলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। এসময় তিনি সরবরাহকৃত খাদ্যের মধ্যে পঁচা ডিম দেখতে পান। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদারকি জোরদারের নির্দেশ দেন তিনি।

জানা যায়, সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আর্থিক সহযোগিতায় এই উপজেলায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গনাইজেশন (ইএসডিও)।

এরআগেও উপজেলায় স্কুল ফিডিং ব্যাপক অনিয়ম নিয়ে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকা প্রিন্ট ভার্সনে গত ৭ মে ‘পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা-নীলফামারীতে মিড ডে মিল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০১ জন। তাদের সবার জন্য সপ্তাহে ৫ দিন ডিম, কলা ও বানরুটি সরবরাহ করে আসছেন বিদ্যালয়ের দপ্তরি মো. জোনাব আলী টিটুর স্ত্রী হেনা বেগম।

এ বিষয়ে নয়ানখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মওলা বলেন, আমার বিদ্যালয়ের ২০১ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে স্কুল ফিডিং এর আওতায় রয়েছে ১৮১ জন। তাদের জন্য বানরুটি, কলা ও ডিম বিদ্যালয়ের দপ্তরি মো. জোনাব আলী টিটুর স্ত্রী হেনা বেগম সরবরাহ করে আসছে। তিনি বাড়ি থেকে সব তৈরি করে স্কুলে নিয়ে আসতেন। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার তিনি স্কুলে এসে ডিমগুলি সিদ্ধ করছিলেন।

গ্যাস সিলিন্ডার চুলার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে আমরা কেয়ার মাদার হেনা বেগমকে সর্তক করে দিয়েছি। আগামীতে এ ধরণের ঘটনা হবে না বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা ইউএনও বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসেছিলেন। এসময় তিনি খাবারের মান পরিদর্শনের সময় একটি ডিম পঁচা পেয়েছেন। তবে তখনও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিম ও কলা বিতরণ করা হয়নি। পরে নষ্ট ডিমটি পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও অন্যান্য কার্যক্রমে তিনি (ইউএনও) সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে উক্ত বিদ্যালয়ের স্কুল কেয়ার মাদার হেনা বেগমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে ডিম সিদ্ধ করার ক্ষেত্রে স্কুল কক্ষের ভিতরে গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা ব্যবহার করাকে এলাকাবাসী ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে সংশ্লিষ্টদের দায়ী করেছেন। কারণ গ্যাস সিলিন্ডার কোনো দূর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নিবেন? কোমনমতি শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে রেখে স্কুল রুমের ভিতরে গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা ব্যবহার করা হয়েছে তা প্রশ্ন রেখেছে অভিভাবকরা।

এ বিষয়ে কথা হলে বাস্তবায়ন সংস্থা ইএসডিও কিশোরগঞ্জ উপজেলা ম্যানেজার আলিনুর রহমান বলেন, ওই স্কুলের দপ্তরির স্ত্রী হেনা বেগমকে স্কুল কেয়ার মাদার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ওই স্কুলে ‘স্কুল ফিডিং’ এর খাদ্য সরবরাহ করে, আমরা তাকে বিকাশে টাকা পেমেন্ট করে দেই।

স্কুল রুমের ভিতরে গ্যাস সিলিন্ডারের চুলা ব্যবহার করে ডিম সিদ্ধ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দায়িত্ব প্রাপ্ত স্কুল কেয়ার মাদার খড়ির চুলায় ডিম সিদ্ধ করলো না গ্যাসের চুলায় করলো সেটি আমাদের দেখার বিষয় না। ডিম ও কলা পচনশীল খাদ্য। স্কুল কেয়ার মাদারদের নিদের্শনা দেওয়া রয়েছে, কোনো খাবার নষ্ট থাকলে সেটি তাৎক্ষনিক পরিবর্তন করে দিবে। আজকেও ওই স্কুলের নষ্ট ডিমটিও পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।   

কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, নয়ানখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খাবারের মান পরীক্ষা করি। সেখানে একটি ডিম নষ্ট পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে খাবারের মান নিশ্চিত করতে এবং নিয়মিত তদারকি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।