আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশন নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের স্বাক্ষরিত করা বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি বিষয়ক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা তিস্তা, ধরলা,দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে এদিন সকাল ৯টার পর হতে উজানে ও স্থানীয়ভাবে বৃস্টি বলয় শুরু হওয়ায় নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নীলফামারীর ডালিয়া ও লালমনিরহাটের দোয়ানী সীমানায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখে নজরদারী করা হচ্ছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।
এদিকে ডালিয়াস্থ তিস্তা নদীর পানি পরিমাপ (গেজ রিডার) নুরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬ হতে বিকাল ৬ পর্যন্ত ১২ ঘন্টায় তিস্তার পানি ১৮ সেন্টিমটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এরমধ্যে বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৬টা ৩ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়। এরআগে সকাল ৬টা ও ৯টায় তিস্তার লেবেল ছিল ৫১ দশমিক ৮৫, বেলা ১২ টায় ৫১ দশমিক ৮৬ এবং বেলা ৩টায় ৫১ দশমিক ৮৭। সর্বশেষ বিকাল ৬ টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার; যা বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।তবে তিস্তার ভাটিতে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার (২৮.৬৮) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এ পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৯ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার।সুত্র মতে, উজানে বৃস্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে উজানের ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার দো-মোহনী ও কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে তিস্তায় হলুদ সংকেত জারী করা হয়েছে বলে ভারতীয় সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন ওয়েবসাইডে প্রকাশ করা হয়েছে।সেখানে জানানো হয় তিস্তা নদীর উজানে ভারতের দো-মোহনী পয়েন্টে বিকাল ৩টায় সেখানকার বিপৎসীমার (৮৫ দশমিক ৯৫) ২৮ সেন্টিমিটার (৮৫ দশমিক ৬৭) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ অংশের ডালিয়ায় তিস্তার ব্যারেজ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ভারতের মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে তিস্তার প্রবাহ বিকাল ৫টায় বিপৎসীমার (৬৫ দশমিক ৯৫) ১৫ সেন্টিমিটার (৬৫ দশমিক ৮০) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।এদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার কিছু স্থানে সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, বেলা ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত তিন ঘন্টায় তিস্তা নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিকাল ৬টায় তিস্তা নদী বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার (৫২.০৩) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। তিস্তায় কমলা সংকেত জারি করা হয়েছে। উল্লেখ যে, চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদী প্রথম বিপৎসীমা অতিক্রম করে ২৩ জুন। সেসময় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এরপর পানি নেমে যায়। দ্বিতীয় দফায় ২৮ জুন বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হয়েছিল। যার ১২ ঘন্টা পর পানি কমে বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে।