জাতিসংঘের তদন্ত

সুদানের দারফুরে মিলেছে আরএসএফের পরিকল্পিত গণহত্যার প্রমাণ

সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুরের এল-ফাশের শহরে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন তথ্য-অনুসন্ধান মিশন। তদন্তে বলা হয়েছে, বেসামরিক মানুষের ওপর সংঘটিত গণহত্যা, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং অনাহারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের মতো কর্মকাণ্ড গণহত্যার শামিল।

বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের অবরোধ চলাকালে ও পরে আরএসএফ বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক সহিংসতা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গণহত্যা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বেঁচে ফেরা অনেক নারী জানিয়েছেন, সম্প্রতি নিহত স্বজনদের মরদেহের পাশেই তাদের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। এছাড়া শহরটিতে দীর্ঘ অবরোধ, ত্রাণ সরবরাহে বাধা এবং খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় হামলার মাধ্যমে আরএসএফ অনাহারকে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছে, যা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

তবে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে আরএসএফ। তাদের দাবি, এসব অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাজানো হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, দক্ষিণ-মধ্য সুদানের উত্তর কর্দোফানের রাজধানী এল-ওবেইদে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে। সেখানে বিচারবহির্ভূত হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ধারাবাহিক ঘটনার তথ্য পেয়েছে তাঁর দপ্তর।

জাতিসংঘের তদন্ত মিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ চান্দে ওসমান বলেন, এল-ফাশেরে যেসব ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে—শহর অবরোধ, বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা, ত্রাণ প্রবেশে বাধা এবং সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক নির্যাতন—সেগুলো এল-ওবেইদের জন্যও বড় ধরনের সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, আরও বড় মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এরই মধ্যে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এল-ওবেইদের পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি তদন্ত শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ সতর্ক করেছে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের আবাসস্থল এই শহরটিতে, যেখানে ৮৩ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে, সেখানে বড় ধরনের নৃশংসতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।