সুদানের গুরুত্বপূর্ণ শহরে ড্রোন হামলা, নিহত ২৩

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

সুদানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর আল-উবাইদে ড্রোন হামলায় ২৩ জন নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) একটি মানবাধিকার সংস্থা এই তথ্য জানিয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হওয়া অন্যতম ভয়াবহ বিমান হামলাগুলোর মধ্যে এটি একটি। 

স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লাউয়ার্স জানিয়েছে, হামলায় ২৩ জন নিহত এবং আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, এল-ওবেইদ হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তত ১৫ জন নিহত ও ১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোন হামলাগুলো আবাসিক এলাকা, একটি জানাজার সমাবেশ, খাদ্যপণ্য বহনকারী ট্রাক এবং সেনাবাহিনীর অবস্থানের কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হানে।

ইমার্জেন্সি লইয়ার্স এই হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছে। তবে আরএসএফ তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে আবু জাইমা শহরের প্রধান বাজারে আরেকটি ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। ওই হামলার দায়ও এখনো কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে দেশজুড়ে হওয়া ড্রোন হামলায় অন্তত ৮৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

গত অক্টোবরে পশ্চিম দারফুরে সেনাবাহিনীর সর্বশেষ প্রধান ঘাঁটি 'আল-ফাশির' আরএসএফ দখল করার পর থেকে কর্দোফান অঞ্চল এবং ইথিওপিয়া সীমান্তের কাছাকাছি ব্লু নাইল রাজ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে।

দারফুরে আরএসএফ-এর নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর সাথে পূর্ব সুদানের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর সংযোগকারী হিসেবে কর্দোফান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র, এবং এটি দখলের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।

সুদানের এই ভয়াবহ সংঘাতের ফলে এ পর্যন্ত দশ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘ এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুতি এবং ক্ষুধা সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত