মাদারীপুরে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

মাদারীপুর সদর উপজেলার রূপাইয়া রাস্তি গ্রামে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা, গর্ভের সন্তান নষ্টের চেষ্টা এবং পাঁচ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে জোরপূর্বক আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও দেবরের বিরুদ্ধে। আহত ওই গৃহবধূ বর্তমানে মাদারীপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আসমা বেগম (২৫) সদর উপজেলার রূপাইয়া রাস্তি এলাকার বাসিন্দা।

তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী রানা খান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় প্রায়ই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ হতো। একপর্যায়ে স্বামী তার বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা এনে দিতে চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি বর্তমানে প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপরও তার স্বামী গর্ভের সন্তানকে নিজের সন্তান হিসেবে অস্বীকার করে বিভিন্ন অপবাদ দিতে থাকেন। গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে মাদকের টাকা না পেয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী রানা খান ও তার ভাই রবিন খান তাকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে আবারও মারধর করেন। এ সময় তার পেটে আঘাত করে গর্ভের সন্তান নষ্টের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আসমা বেগম আরও জানান, তার চিৎকার শুনে শ্বশুর-শাশুড়ি এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং বিষয়টি তার স্বজনদের জানান। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এছাড়া তার অভিযোগ, অভিযুক্তরা তার পাঁচ বছর বয়সী কন্যা নাফিদাকে জোরপূর্বক নিজেদের কাছে আটকে রেখে গোপন স্থানে লুকিয়ে রেখেছেন এবং মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছেন না।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা মৌখিক তথ্য পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’