স্পেনের বিপক্ষে বেলজিয়াম এগিয়ে

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নাম, ইতিহাস কিংবা অতীতের সাফল্য খুব বেশি কাজে আসে না। এখানে পার্থক্য গড়ে দেয় বর্তমান ফর্ম, শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। স্পেন ও বেলজিয়ামের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে যদি আমাকে কোনো দলকে এগিয়ে রাখতে বলা হয়, তাহলে আমি বেলজিয়ামের পক্ষেই থাকব।

এর সবচেয়ে বড় কারণ তাদের ফিটনেস। পুরো টুর্নামেন্টে বেলজিয়াম যেভাবে উচ্চগতির ফুটবল খেলেছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ৯০ মিনিটজুড়ে একই তীব্রতা ধরে রেখে আক্রমণ ও রক্ষণে সমানভাবে অবদান রাখছে তারা। আধুনিক ফুটবলে শারীরিক সক্ষমতা একটি বড় অস্ত্র, আর সেই জায়গায় স্পেনের তুলনায় বেলজিয়ামকে আমি এগিয়ে রাখব।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কামব্যাক করার মানসিকতা। বড় দল হওয়ার জন্য শুধু এগিয়ে থেকে ম্যাচ জেতাই যথেষ্ট নয়, পিছিয়ে পড়ার পর কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় সেটাও জানতে হয়। বেলজিয়াম এই বিশ্বকাপে সেই চরিত্র দেখিয়েছে। ম্যাচ কঠিন হয়ে গেলেও তারা ভেঙে পড়েনি। বরং আরও আগ্রাসী হয়েছে, প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছে এবং সুযোগ তৈরি করেছে। এই মানসিক শক্তি নকআউট ম্যাচে বিশাল পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

বেলজিয়ামের আরেকটি বড় শক্তি তাদের রানিং ফুটবল। তারা বল নিয়ে যেমন দ্রুত এগোয়, বল হারানোর পরও তেমনি দ্রুত প্রেসিংয়ে ফিরে আসে। মাঝমাঠ থেকে উইং, আবার উইং থেকে বক্স, সব জায়গায় তাদের গতির ছাপ স্পষ্ট। প্রতিপক্ষকে এক মুহূর্তও স্বস্তিতে থাকতে দেয় না। আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সফল কৌশলই হলো এই উচ্চগতির ট্রানজিশন ফুটবল, আর সেটি বেলজিয়াম দারুণভাবে প্রয়োগ করছে।

অন্যদিকে স্পেন কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও তাদের খেলায় সেই পুরনো আধিপত্য খুব বেশি দেখা যায়নি। এক সময় স্পেন মানেই ছিল বলের দখল, নিখুঁত পাসিং এবং ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ। প্রতিপক্ষ বলই পেত না। কিন্তু এবার সেই ধারাবাহিকতা চোখে পড়েনি। তারা ম্যাচ জিতেছে ঠিকই, তবে সবসময় প্রতিপক্ষের ওপর কর্র্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

আমার কাছে মনে হয়েছে, স্পেন এখনো তাদের নামের প্রতি পুরোপুরি সুবিচার করতে পারেনি। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে স্পেনের কাছ থেকে দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা এমন কোনো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি, যা দেখে নির্দ্বিধায় বলা যায়, এটাই সেই চ্যাম্পিয়নসুলভ স্পেন। তাদের আক্রমণে ধারাবাহিকতা নেই, মাঝেমধ্যে ছন্দও হারিয়ে ফেলছে। বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই দুর্বলতা বিপদ ডেকে আনতে পারে।

তবে এটাও সত্য, স্পেনকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। তাদের দলে এমন কিছু ফুটবলার আছেন, যারা এক মুহূর্তের জাদুতেই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে দেওয়ার সামর্থ্যও এখনো তাদের রয়েছে। যদি তারা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে, তাহলে বেলজিয়ামের জন্য কাজটা সহজ হবে না।

তারপরও আমি যদি দুই দলের বর্তমান অবস্থা বিচার করি, তাহলে বেলজিয়ামকে সামান্য এগিয়ে রাখব। কারণ তারা এখন বেশি আত্মবিশ্বাসী, বেশি ফিট এবং বেশি গতিময় ফুটবল খেলছে। তাদের মধ্যে জয়ের ক্ষুধা স্পষ্ট। বড় ম্যাচে এই মানসিকতা অনেক সময় কৌশলের চেয়েও বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে।

আমার বিশ্বাস, ম্যাচটি হবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ছোট ছোট ভুলই হয়তো ফল নির্ধারণ করবে। তবে বর্তমান ফর্ম, ফিটনেস, রানিং ফুটবল এবং কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা বিবেচনায় আমার পছন্দ থাকবে বেলজিয়াম। এই মুহূর্তে রেড ডেভিলদের আমি স্পেনের চেয়ে এক ধাপ এগিয়েই রাখব।