পর্তুগাল জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছেন হোর্হে জেসুস। দায়িত্ব নিয়েই দলের প্রধান তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সাথে তার সম্পর্ক কেমন হবে—এই প্রশ্নের মুখোমুখি হন ৭১ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ কোচ। এর উত্তর দিতে গিয়ে তিনি সৌদি ক্লাব আল-হিলালে নেইমারের সাথে তার কাজের অভিজ্ঞতা এবং কীভাবে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
আল-হিলালে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নেইমারের সাথে কাজ করেছেন জেসুস। ২০২৫ সালের শুরুতে চোট এবং বিদেশিদের কোটার সীমাবদ্ধতার কারণে নেইমারকে সৌদি লিগের দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এই পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড। সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে জেসুস বলেন:
'আমি বিশ্বের সেরা তিনজন খেলোয়াড়ের মধ্যে দুজনকে কোচিং করিয়েছি, শুধু মেসি বাকি আছে। আমি নেইমারকে কোচিং করিয়েছি, রোনালদোকেও করিয়েছি। নেইমারকে আমি একদিন পরিষ্কার বলেছিলাম—'তু ফিনিশ' (তুমি শেষ), ঠিক আছে? দল এবং জাতীয় দলের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, আমি সেটাই করব।'
জেসুসের সেই সিদ্ধান্তের পর নেইমার এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার প্রস্তাব পর্যাপ্ত মনে না করে সান্তোসে ফিরে যান। পরে নেইমার স্বীকার করেছিলেন যে, জেসুস যখন তার ফিটনেস নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন, তখন তিনি বেশ কষ্ট পেয়েছিলেন।
চলতি সপ্তাহে বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বিদায় নেওয়ার পর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আভাস দিয়েছিলেন যে এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে জেসুস এখনই সিআরসেভেনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি দেখছেন না। রোনালদোকে নিয়ে তার মূল্যায়ন:
'আমি এখনো ক্রিসের সাথে কথা বলিনি। সে আমার বা জাতীয় দলের জন্য কখনোই সমস্যা হবে না। আমি দলের সবার সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলব। সে পর্তুগিজ ফুটবল ও জাতীয় দলের একটি প্রতীক, যা চিরকাল ইতিহাসে থাকবে।'
'ওর সাথে কাজ করা খুবই সহজ। আল-নাসরে গত বছর সে ৫০টি ম্যাচের মধ্যে ৩১টি খেলেছে, আমি তাকে ১৬ বার তুলে নিয়েছি। সে খেলোয়াড় আর আমি কোচ—এই সীমারেখা আমরা কখনো গুলিয়ে ফেলিনি।'
জেসুস বলেন, 'সে যদি খেলা চালিয়ে যায় এবং দলে অবদান রাখার মতো ফিটনেস থাকে, তবে আমি অবশ্যই তাকে ডাকব। বয়স কোনো বিষয় নয়, পারফরম্যান্সই আসল।'
পর্তুগাল হলো ইউরোপের ব্রাজিল"
পর্তুগালের তরুণ প্রতিভা (যেমন রদ্রিগো মোরা ও জিওভানি কোয়েন্দা) প্রসঙ্গে জেসুস দলটির একাডেমি ও ফুটবল সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন:
'পর্তুগালের ক্লাব স্তরের একাডেমিগুলো অত্যন্ত মানসম্পন্ন। পর্তুগাল হলো ইউরোপের ব্রাজিল। ব্রাজিলে যেমন একটা পাথরে লাথি মারলে একজন ফুটবলার বের হয়, পর্তুগালেও ঠিক তাই।'
তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমানে পর্তুগাল দলের অন্যতম প্রধান তারকা রাফায়েল লেয়াও, গনসালো গেডেস, জোয়াও কানসেলো এবং বার্নার্ডো সিলভাদের তিনিই ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রথম মাঠে নামিয়েছিলেন।
পর্তুগাল দলকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জেসুস বলেন, 'দলকে আগের চেয়ে দ্বিগুণ ভালো খেলতে হবে, নইলে সবকিছু একই জায়গায় স্থবির হয়ে থাকবে। আমি এখানে জিততে এসেছি।'