মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয় ‘ডাকাতি’! ইমেইল হ্যাক করে বার্তা

বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়কে ‘ডাকাতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের কাছে গণ-ইমেইল পাঠানো হয়েছে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এই ইমেইলগুলো পাঠানো হয় বলে দাবী করেছে সংস্থাটি। এই নজিরবিহীন সাইবার হামলার ঘটনার পর এএফএ জরুরি তদন্ত শুরু করেছে।

​গত মঙ্গলবার মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও শেষ ১৩ মিনিটে ৩টি গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচের ৬০ মিনিটে ভিএআর-এর মাধ্যমে মিশরের একটি বৈধ গোল বাতিল এবং পেনাল্টি না পাওয়া নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখনো তীব্র বিতর্ক চলছে।

​‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর অন্তত একজন সাংবাদিক এই হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়া ইমেইলটি পেয়েছেন। ইংরেজি ভাষায় লেখা ওই ইমেইলের সাবজেক্ট লাইনে লেখা ছিল সিস্টেম হ্যাকড: অন্যায্য সিদ্ধান্ত।

​বার্তার শুরুতে লেখা ছিল, "এই ডাকাতি সবার অলক্ষ্যে চলে যাবে না।" ইমেইলের নিচে স্বাক্ষর হিসেবে লেখা ছিল—"অল ইজিপশিয়ান সাইবার ওয়ারিয়র্স"

​মিডিয়াকে উদ্দেশ্য করে হ্যাকাররা লেখে:

​"নিরাপত্তা একটা বিভ্রম, ঠিক যেমন এই ম্যাচের সততাও একটা বিভ্রম। মাঠে যদি কোনো বিচার না থাকে, তবে আপনাদের নেটওয়ার্কেও কোনো শান্তির আশা করবেন না। এই বার্তাটিকে আমাদের স্থায়ী প্রতিবাদ হিসেবে গণ্য করুন।"

​হ্যালোউইন স্টাইলে পাঠানো এই ইমেইলে দাবি করা হয়, পুরো ৯০ মিনিট জুড়েই অন্যায্য রেফারিং হয়েছে এবং মিশরের কোচ হোসাম হাসান ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কোচ হাসান চলতি বিশ্বকাপেও ফিলিস্তিনের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।

​হ্যাকারদের এই বার্তার সাথে ম্যাচ শেষে মিশরীয় দলের করা মন্তব্যের মিল পাওয়া গেছে। মিশরের তারকা ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, "বিশ্বকাপের ট্রফিটি আর্জেন্টিনার দিকেই নির্দেশিত (ইচ্ছাকৃতভাবে দেওয়া হচ্ছে)।"

​অন্যদিকে প্রধান কোচ হোসসাম হাসান ম্যাচ শেষের পরপরই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি আর কোনোদিন বিশ্বকাপ ফুটবল দেখবেন না, কারণ "এই প্রতিযোগিতায় কোনো ইনসাফ বা ন্যায়বিচার নেই।"

​আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের কোনো একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অননুমোদিতভাবে এই মেইলগুলো পাঠানো হয়েছে, যা তাদের টিম দ্বারা তৈরি বা অনুমোদিত নয়।

​এএফএ জানায়:

​"আমাদের সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশের (হ্যাক) একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা আইটি বিভাগের সাথে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।"

​পরবর্তীতে এএফএ-এর একজন মুখপাত্র জানান যে, সাময়িকভাবে তৈরি হওয়া এই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে এবং যারা এই ভুয়া ইমেইল পেয়েছেন, তাদের এটি এড়িয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।