শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে স্পেন। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর জয়সূচক গোলে ভেঙে যায় বেলজিয়ামের স্বপ্ন। শেষ চারের মহালড়াইয়ে এখন ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে স্প্যানিশরা।
সোফি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য দেখায় স্পেন। ম্যাচের ৬৯ শতাংশ সময় বল ছিল তাদের পায়ে। আক্রমণাত্মক ফুটবলের পুরস্কারও তারা পেয়ে যায় ম্যাচের আধা ঘণ্টার মাথায়।
৩০ মিনিট:ডান দিক থেকে পেদ্রো পোরো ও লামিন ইয়ামালের দুর্দান্ত বোঝাপড়ায় বল পান দানি ওলমো। ওলমোর নেওয়া প্রথম শটটি বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দারুণভাবে প্রতিহত করলেও ফিরতি বলে সুযোগ হাতছাড়া করেননি ফাবিয়ান রুইজ। আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে এগিয়ে নেন তিনি।
৪১ মিনিট: চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম স্পেনের রক্ষণভাগ ভাঙতে সক্ষম হয় কোনো দল। কেভিন ডি ব্রুইনের ডিফেন্স-চেরা পাসে ডানপ্রান্ত থেকে ক্রস বাড়ান কাস্তানিয়া। স্প্যানিশ ডিফেন্ডার কুবার্সিকে ফাঁকি দিয়ে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান শার্ল দে কেটেলারে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬২ মিনিটে লামিন ইয়ামালের একটি জোরালো শট ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন কোর্তোয়া। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরেই উরুর পেশিতে চোট পান এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ৭১ মিনিটে চোখের জলে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে, মাঠে নামেন তরুণ গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স।
কোর্তোয়ার মাঠ ছাড়াটাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির একটি দূরপাল্লার শট ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি বেলজিয়ান ব্যাক-আপ কিপার ল্যামেন্স। তার হাত থেকে বল ফস্কে গেলে সেখানে ওত পেতে থাকা মিকেল মেরিনো সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন এবং আলতো শটে বল জালে জড়িয়ে স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন। পর্তুগালের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও মেরিনো স্পেনের জয়ের নায়ক ছিলেন।
ম্যাচের শেষ দিকে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেছিল বেলজিয়াম। অতিরিক্ত ৭ মিনিটের মাথায় সেলেমেকার্সের একটি বিপজ্জনক ক্রস অল্পের জন্য কুবার্সির পায়ে লেগে স্প্যানিশ কিপার উনাই সিমোনের গ্লাভসে জমা হলে নিশ্চিত রক্ষা পায় স্পেন। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধান ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।