স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে এখনও নিখোঁজ বহু

দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনের আলমেরিয়া প্রদেশের বেদার ও লস গায়ার্দোস এলাকায় ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৩ জন।

গ্রীষ্মকালীন তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানো, চরম শুষ্ক মাটি এবং প্রবল বাতাসের ফলে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল থেকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত রয়েছেন। 

আগুনের সূত্রপাত একটি ভেঙে পড়া বিদ্যুৎ লাইনের কারণে হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও স্থানীয় বিদ্যুৎ সংস্থাগুলো তা অস্বীকার করেছে।

আন্দালুসিয়া সরকারের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও জরুরি পরিষেবা বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও সানজ এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে ‘অভূতপূর্ব ট্র্যাজেডি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, আন্দালুসিয়ার ইতিহাসে এত প্রাণহানির দাবানলের ঘটনা আগে ঘটেনি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার বাতাস কিছুটা শীতল হলে পরিস্থিতি অনুকূলে আসতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহ ও দাবানলের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ১৯৮৪ সালের পর এটিকে স্পেনের মারাত্মক দাবানল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

এর আগে ১৯৮৪ সালে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের লা গোমেরা-র একটি আগুনে ২০ জন মারা গিয়েছিলেন, অন্যদিকে ১৯৭৯ সালে উত্তর-পূর্ব স্পেনের ইয়োরেত দে মারের কাছে একটি বনের আগুনে ৯টি শিশুসহ ২১ জন নিহত হয়েছিলেন।

কোপার্নিকাস জলবায়ু সেবা সংস্থার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ইউরোপ হলো দ্রুততম উষ্ণায়নশীল মহাদেশ, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুত উত্তপ্ত হচ্ছে।

এর ফলে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ইউরোপের পানি সরবরাহের ওপর চাপ বাড়ছে এবং দাবানল আরও তীব্র রূপ নিচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি