স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভে নেমেছেন হাজারো মানুষ। তার ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর এই আন্দোলন জোরদার হয় বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
শনিবারের (২৩ মে) এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা হাতে স্পেনের লাল-হলুদ পতাকা ও 'এনাফ' লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় নামেন। তারা 'দুর্নীতির মূল্য আছে, আর কোনো দায়মুক্তি নয়, পদত্যাগ ও নির্বাচন এখনই' লেখা একটি বড় ব্যানারের পেছনে মিছিল করেন।
বিক্ষোভটির আয়োজন করে ১৫০টিরও বেশি নাগরিক সংগঠনের জোট 'সোসাইদাদ সিভিল এসপানোলা'। এতে প্রধান বিরোধী দল পপুলার পার্টি এবং চরম ডানপন্থী দল ভক্স ও সমর্থন জানায়। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ এতে অংশ নেয়। তবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী উপস্থিতি ছিল প্রায় ৪০ হাজার।
মিছিল শেষে কিছু বিক্ষোভকারী প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে দাঙ্গা পুলিশ তাদের বাধা দেয়। ঘটনাটি তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ থাকলেও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
ভক্স দলের নেতা সান্তিয়াগো আবাসকাল বিক্ষোভ শুরুর আগে বলেন, 'পেদ্রো সানচেজের ঘনিষ্ঠদের মাঝে এমন কেউ নেই যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ নেই। স্পেনকে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত মাফিয়া জিম্মি করে রেখেছে।'
২০১৮ সালে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সানচেজ জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাই ডেভিড সানচেজ বর্তমানে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। একইভাবে তার স্ত্রী বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধেও আলাদা দুর্নীতির তদন্ত চলছে। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং গত মাসে এক প্রসিকিউটর মামলাটি বন্ধ করার সুপারিশ করেছেন। তিনি পদত্যাগের চাপের মধ্যেও দায়িত্বে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
