ইকোসিস্টেম ধ্বংসে প্রজাতির বিনাশ

পৃথিবীর প্রাণিজগতের বৈচিত্র্য, বিশাল ও বিস্ময়কর। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন কোটি কোটি বছর ধরে বিবর্তনের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। যাদের আকার, আকৃতি, বাসস্থান এবং খাদ্যাভ্যাসে রয়েছে অভাবনীয় পার্থক্য এবং বৈচিত্র্য। যেখানে লাখ লাখ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। এতে যেমন অণুবীক্ষণিক প্রাণী, তেমনই রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম ব্লু হোয়েল। আবার একই প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা থাকে। মরুভূমি, গভীর সমুদ্র, বরফাবৃত মেরু অঞ্চল কিংবা ঘন বন প্রতিটি ভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে মানাতে বেঁচে থাকার জন্য জীবেরা অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। প্রকৃত অর্থে, পৃথিবীর প্রায় ৯০% প্রাণী অমেরুদণ্ডী। যাদের মধ্যে কীটপতঙ্গ, মাকড়সা, কাঁকড়া ও বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী রয়েছে। বাস্তুতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ জলজ। রয়েছে ৩৪,০০০-এর বেশি প্রজাতি। শীতল রক্তের এই প্রাণীরা ডাঙ্গা ও পানি, উভয় স্থানে মানিয়ে নিতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে সাপ, কুমির ও ব্যাঙ। আকাশে ওড়ার ক্ষমতা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বে ১১,০০০-এর বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে। ডলফিন, তিমি থেকে শুরু করে বাঘ, হাতি এবং মানুষ এ দলের অন্তর্ভুক্ত। তারা বাচ্চা প্রসব করে এবং মাতৃদুগ্ধ পান করায়। জীব জগতের বিশাল  বৈচিত্র বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং মানবসভ্যতার অস্তিত্ব টেকাতে সাহায্য করছে। ইকোসিস্টেম ভেঙে পড়লে, জীবকুল ধ্বংসের সম্মুখীন হবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়বে, বিশুদ্ধ বাতাস ও পানির সংকট দেখা দেবে। তখন মানবসভ্যতার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।