মৌলভীবাজারে কমছে নদ-নদীর পানি

মৌলভীবাজারে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় জেলাজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার শঙ্কা কেটে গেছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে জেলার মনু, কুশিয়ারা, ধলাই ও জুড়ি নদীর পানি আগের চেয়ে অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। পাউবো জানিয়েছে, নতুন করে অতি ভারী বৃষ্টিপাত না হলে নদীর পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবকটি নদীর পানি গত শুক্রবার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও গতকাল শনিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মনু নদীর পানি রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ২৬২ সেন্টিমিটার ও জুড়ি নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওলিদ জানান, ‘জেলার নদীগুলোর পানি অনেকটাই কমেছে। যেসব এলাকায় নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেঙে গেছে, সেগুলো দ্রুত মেরামতের চেষ্টা চলছে। নতুন করে অতি ভারী বৃষ্টিপাত না হলে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।’

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও দুর্গতদের সহায়তায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, পানিবন্দি মানুষকে ইতিমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের মাঝে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে।’