এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভোলার চরফ্যাশনে হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, গতকাল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের এমসিকিউ পরীক্ষার সময় কিছু পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করলে কক্ষ পরিদর্শকরা বাধা দেন। এ সময় কয়েকজন পরীক্ষার্থী শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
তিনি জানান, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ পরীক্ষার্থী এ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। গতকাল পরীক্ষা শেষে একদল পরীক্ষার্থী কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা কলেজের পেছনের ফটক ভেঙে ও দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে ঢুকে অধ্যক্ষের কক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। হামলার সময় দায়িত্বরত শিক্ষকদের প্রায় ১ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলেও জানান তিনি।
চরফ্যাশন থানার ওসি মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধদের সরানো সম্ভব হয়নি। পরে দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।