‘সোমেশ্বরী’ প্রকৃতি নিয়ে কথা বলবে

কাজী নওশাবা আহমেদ। একাধারে এই প্রজন্মের গুণী অভিনেত্রী ও নাট্যনির্দেশক। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে তার নাটকের দল ‘টুগেদার উই ক্যান’ এরই মধ্যে চারটি সফল মঞ্চনাটক প্রযোজনা করেছে। তবে সম্প্রতি তিনি নাম লিখিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক চলচ্চিত্রে। ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার আওতাধীন ‘গ্রীন ফিল্মস’-এর ব্যানারে সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে নির্মিত হয়েছে নতুন সিনেমা ‘সোমেশ্বরী’। এই সিনেমার নেপথ্য গল্প ও নিজের অভিনয় প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক আনন্দ

‘সোমেশ্বরী’ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার

গল্পটা কেমন ছিল?

সত্যি বলতে কী, এই সিনেমার স্ক্রিপ্ট কী হবে বা কারা কারা অভিনয় করবেন, তার কোনো কিছুই কিন্তু আমি আগে থেকে জানতাম না। আমরা টিম মেম্বাররা, আমি, আপন, লতা, জাহিদসহ সবাই মিলে জাস্ট মধ্যনগর চলে গেলাম। সেখানে সোমেশ্বরী নদীর তীরে গিয়ে স্পটেই মূলত স্ক্রিপ্টটা দাঁড় করানো হয়েছে। আর নেপথ্য থেকে আমাদের পুরো সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন বিবেশ রায়।

এই সিনেমায় আপনার অভিনয় করার কথাই ছিল না, পরে যুক্ত হলেন কীভাবে?

হ্যাঁ, ঠিক তাই। আমার কিন্তু এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল না, আমি মূলত নির্মাণের সঙ্গেই যুক্ত ছিলাম। কিন্তু চিত্রনাট্য চূড়ান্ত হওয়ার পর দেখা গেল, মূল চরিত্রটিতে অভিনয় করার মতো অন্য কেউ সেখানে নেই। পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত চরিত্রটি আমাকেই করতে হয়।

প্রস্তুতির জন্য তো একদমই সময় পাননি। চরিত্রটি ফুটিয়ে তুললেন কীভাবে?

এই চরিত্রটি রূপায়ণের পেছনে আমার বাবার অবদান অনেক। আমার আব্বু আমাকে নিয়ে বিভিন্ন সময় শহরের বাইরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছেন। যে কারণে গ্রামীণ জীবনযাপন এবং গ্রামীণ মানুষের স্বভাব-চরিত্রগুলো খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি মধ্যনগরের অংশগ্রহণকারী এবং আমার দল আমাকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছে। পুরো শুটিং চলাকালীন আমার মেয়ে প্রকৃতি আমার সঙ্গে ছিল। চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে মধ্যনগরের হাওর অঞ্চলের মানুষেরা আমাকে দারুণভাবে সাহায্য করেছেন। তাদের সঙ্গে একদম মিশে গিয়ে, একসঙ্গে খেয়ে ও থেকে চরিত্রটি বোঝার চেষ্টা করেছি। তাদের এই

অকৃত্রিম সহযোগিতা ছাড়া কাজটি কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। তাই চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে আমি আমার বাবা, আমার মেয়ে এবং মধ্যনগরের স্থানীয় মানুষদের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।

মধ্যনগরের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয়দের কাছ থেকে কতটা সহযোগিতা পেয়েছেন?

মধ্যনগরের মানুষজন আমাদের ভীষণ সহযোগিতা করেছে। মজার বিষয় হলো, এই সিনেমায় আমি ছাড়া বাকি যারা অভিনয় করেছেন, তারা একেবারেই নতুন এবং প্রত্যেকেই মধ্যনগরের স্থানীয় বাসিন্দা। আমরা সবাই মিলে যৌথভাবে সিনেমাটির স্ক্রিপ্টিং ও নির্মাণ সম্পন্ন করেছি। আর ‘গ্রীন ফিল্মস’-এর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, কারণ তারা আমাদের এই সিনেমাটি নির্মাণের দারুণ সুযোগ করে দিয়েছেন।

সিনেমার মূল বার্তাটা আসলে কী নিয়ে?

‘সোমেশ্বরী’ মূলত আমাদের প্রকৃতি নিয়ে কথা বলবে। প্রকৃতিতে যে দিনে দিনে বিষ ছড়িয়ে পড়ছে, এই পরিবেশগত সংকটটাই সিনেমাটিতে তুলে ধরা হয়েছে। বাকিটুকু এখন আর না বলি, দর্শক সিনেমা দেখেই জানুক।

আপনার নাটকের দল ‘টুগেদার উই ক্যান’ এবং অন্য প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ততার কথা জানতে চাই।

আমার এই দল থেকে মূলত স্পেশাল চাইল্ডদের নিয়ে নাটক করি, এরই মধ্যে আমরা ৪টি মঞ্চনাটক করেছি। এ ছাড়া অভিনয়েও নিয়মিত সময় দিচ্ছি। বর্তমানে রেজা আরিফের নির্দেশনায় ‘সিদ্ধার্থ’ নামের একটি মঞ্চনাটকে নিয়মিত অভিনয় করছি।