ক্যামেরার তারে বল লাগার বিতর্ক: কাঠগড়ায় সেই ভিএআর রেফারি

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গোল হজমের ক্ষেত্রে 'স্পাইডারক্যাম'-এর তারে বল লাগার যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নরওয়ে তুলেছিল, তা অফিশিয়ালি খারিজ করে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা। ফিফা জানিয়েছে, বল আকাশে থাকা অবস্থায় তারে আঘাত করার কোনো "প্রমাণ মেলেনি"।

মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শিয়েলদারুপের গোলে নরওয়ে এগিয়ে গেলেও, প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে (৪৫+২ মিনিটে) জুড বেলিংহামের গোলে সমতায় ফেরে থ্রি লায়নসরা। তবে বেলিংহামের সেই গোলটির বিল্ড-আপ নিয়েই এখন ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় চলছে।

নরওয়ের দাবি, তাদের গোলরক্ষক আরিয়ান ন্যালান্ডের নেওয়া একটি গোল কিক আকাশে ভাসার সময় স্টেডিয়ামের ওভারহেড স্পাইডারক্যামের তারে আংশিক আঘাত করে। বলটির গতিপথ হঠাৎ পরিবর্তিত হয়ে ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে জুড বেলিংহাম নরওয়ের জালে বল জড়ান।

ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, বল তারে আঘাত করলে খেলা থামিয়ে রেফারিকে ‘ড্রপ বল’ দিতে হতো। গোলটি হওয়ার পর গোলরক্ষক ন্যালান্ড ক্ষোভে মাঠে আঘাত করতে থাকেন। হাফ-টাইমের বাঁশি বাজার পর মাঠ ছাড়ার সময় নরওয়ের অন্যতম সেরা তারকা আর্লিং হালান্ড এবং কোচ স্টেল সোলবাকেন ফ্রেঞ্চ রেফারি ক্লেমেন্ট টার্পিনের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন।

তবে নরওয়ের এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "ইংল্যান্ডের গোলের আগে বাতাসে থাকা অবস্থায় বলের ভেতরের সেন্সরে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক কম্পন বা 'হার্টবিট পিক' ধরা পড়েনি। ফলে বলটি ওপরের তারে লেগে দিক পরিবর্তন করেছিল—এমন কোনো প্রমাণ নেই।" উল্লেখ্য, এর আগে গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়া বনাম পর্তুগাল ম্যাচেও এই সেন্সর প্রযুক্তির সাহায্যে ক্রোয়েশিয়ার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়েছিল।

স্পাইক্যামের তারে বল লাগে বলে অভিযোগ নরওয়ের

আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে ভিএআর রেফারি ব্রিসার্ড

ফিফা প্রযুক্তিগত প্রমাণ দিলেও মাঠের রেফারি খেলা থামাননি এবং এই ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি জেরোম ব্রিসার্ড আদৌ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখেছিলেন কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

ফরাসি রেফারি ব্রিসার্ডের জন্য এই টুর্নামেন্টে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। এর আগে শেষ ১৬-র ম্যাচে আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের মধ্যকার বিতর্কিত ম্যাচেও তিনি ভিএআর  দায়িত্বে ছিলেন। সেই ম্যাচে মিশর ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেওয়ার পর অফিশিয়াল রেফারিং নিয়ে ফিফার কাছে তীব্র পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছিল। বিশেষ করে ম্যাচের ৫৮ মিনিটে মিশরের মারওয়ান আতিয়ার একটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে বাতিল করে দেওয়া হয়, যেখানে দাবি করা হয়েছিল তিনি আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করেছেন। পরপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্রিসার্ডের এমন বিতর্কিত ভূমিকা রেফারিং প্যানেলকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

বিতর্ক ও নরওয়ের অসন্তোষ সত্ত্বেও ফিফার অনড় সিদ্ধান্তের কারণে বেলিংহামের গোলটি বৈধতা পেয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত নরওয়েকে বিদায় করে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে ইংল্যান্ড।