আলভারেজ-লাউতারোর শেষের জোড়া গোলে রূদ্ধশ্বাস জয় আর্জেন্টিনার

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ এএম

যদি সেখানে নাটকীয়তা না থাকে, তবে সেটা আর্জেন্টিনার ম্যাচই নয়! ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও একটি মহাকাব্যিক জয় তুলে নিল আলবিসেলেস্তেরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর, অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চে আলভারেজ আর লাউতারো মার্তিনেজের দুই গোলে ৩-১ ব্যবধানের জয় তুলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল।  সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড।

শুরুতেই ম্যাক অ্যালিস্টারের গোল

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। তবে ১০ মিনিটেই ডেডলক ভাঙেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। লিওনেল মেসির দুর্দান্ত এক কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে জাল খুঁজে নেন লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার। এটি চলতি বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল। প্রথমার্ধে সুইসরা বল দখলে এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনার ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি।

ম্যাকঅ্যালিস্টারের গোল

সমতা ও এমবোলার লাল কার্ড

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় সুইজারল্যান্ড। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ডান এনদোয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে এক কোনাকুনি শটে গোল করে সুইসদের সমতায় ফেরান (১-১)।

তবে ম্যাচের ৭২ মিনিটে নাটকের নতুন মোড় আসে। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফাউল করার নাটক (সিমুলেশন) করায় সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান পর্তুগিজ রেফারি পিনহেইরো। ভিএআর-এর মাধ্যমে এমবোলোর ডাইভিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

আলভারেজের ম্যাজিক মোমেন্ট

১০ জনের দল নিয়েও সুইজারল্যান্ড আর্জেন্টিনার আক্রমণ রুখে খেলাকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়। সেখানেও একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা।ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ১১২ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। নিকোলাস গঞ্জালেসের পাস থেকে বল পান সদ্য মাঠে নামা হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ। তিনি ডি-বক্সের মাথায় বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সুইজারল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে পাস দেন হুলিয়ান আলভারেজকে। বল পেয়েই আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড দারুণভাবে বডি ড্রপ দিয়ে ডান পায়ে জায়গা তৈরি করেন এবং দূরহ কোণ থেকে দ্বিতীয় পোস্ট লক্ষ্য করে এক বুলেট গতির বাঁকানো শট নেন। সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল পুরো ডাইভ দিয়েও বলের নাগাল পাননি।

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে এটিই আলভারেজের প্রথম গোল। পুরো টুর্নামেন্টে লাউতারো মার্টিনেজের সাথে একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে লড়াই করতে হলেও, শেষ দুটি ম্যাচে কোচের আস্থার প্রতিদান ঠিকই দিলেন এই ‘স্পাইডার’।

ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, ১২০ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে থিয়াগো আলমাদা ও লিওনেল মেসির যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হওয়া সুযোগে সুইস কিপার কোবেল প্রথম শটটি আটকে দিলেও ফিরতি বলে গোল করতে ভুল করেননি লাউতারো মার্টিনেজ। দমবন্ধ করা এক লড়াই শেষে পাওয়া জয়ে উৎসবে মাতে আলবিসেলেসতেরা।

লাউতারো মার্তিনেজ জয় নিশ্চিত করেন

সেমিফাইনালে মহারণ

আগামী বুধবার আটলান্টায় ফুটবলের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালের এই লড়াই যে ফুটবল ইতিহাসে নতুন পাতা লিখবে, তা বলাই বাহুল্য।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত