সেমিফাইনাল—এই একটি শব্দ যেন আর্জেন্টিনার জন্য এক অবিচ্ছেদ্য সাফল্যের প্রতীক। ২০২৬ বিশ্বকাপসহ মোট ছয়বার সেমিফাইনালে ওঠা আলবিসেলেস্তেদের জন্য এই ধাপটি যেন শতভাগ সাফল্যের অধ্যায়। এর আগে ১৯৩০, ১৯৮৬, ১৯৯০, ২০১৪ ও ২০২২ সালের আসরে সেমিফাইনালে খেলা আর্জেন্টিনা প্রতিবারই জয়ী হয়েছে, যা তাদের সেমিফাইনালে অজেয় থাকার অনন্য নজির। আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা লিওনেল মেসির দল এখন ইতিহাসের আরও এক রোমাঞ্চকর সন্ধিক্ষণে।
ফুটবলের অবিসংবাদিত এই শক্তির সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল সেই ১৯৩০ সালে। উদ্বোধনী আসরে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছিল, বিশ্বকাপের প্রথম দিন থেকেই আর্জেন্টিনা এক অপ্রতিরোধ্য নাম। এরপর সময়ের আবর্তে সেমিফাইনাল তাদের কাছে পরিণত হয়েছে এক অভ্যাসে।
১৯৭৮ সালে মারিও কেম্পেসের জাদুকরী পারফরম্যান্সে ঘরের মাঠে শিরোপা জেতার আসরে আর্জেন্টিনা সরাসরি ফাইনাল খেলেছিল। এরপর ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার স্বর্গীয় ফুটবল প্রদর্শনীতে বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে বিদায় করে ফাইনালে ওঠা, কিংবা ১৯৯০ সালে ইতালির বিরুদ্ধে টাইব্রেকারের স্নায়ুচাপ জয় করে ইতালিয়ানদের কান্না উপহার দেওয়া—প্রতিটি ম্যাচই যেন আর্জেন্টিনার সাফল্যের একেকটি জীবন্ত আখ্যান।
সেমিফাইনালের এই অজেয় রেকর্ডের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার ফাইনালের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায় এক অদ্ভুত সমীকরণ। তারা এখন পর্যন্ত সেমিফাইনাল পেরিয়ে মোট ছয়বার ফাইনালের মঞ্চে পা রেখেছে। এর মধ্যে তিনবার তারা বিশ্বজয়ের মুকুট পরেছে ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং সবশেষ ২০২২ সালের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে। আবার তিনবার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তাদের ১৯৩০, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালে। অর্থাৎ, সেমিফাইনাল পার হওয়ার পর ট্রফি ছোঁয়ার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা যেন সমান তালে জিতেছে আর হেরেছে। এই ভারসাম্যপূর্ণ ইতিহাসই বুধবারের আটলান্টা ম্যাচকে করেছে আরও রহস্যময়।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই কঠিনতম ধাপটিতে আলবিসেলেস্তেরা কখনোই হার মানেনি। ২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুটআউটে সেই জয় হোক, কিংবা ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার জালে তিন গোল দিয়ে মেসিদের দাপট, সবই যেন বলে দিচ্ছে, সেমিফাইনাল মানেই আর্জেন্টিনার জয়ের অমোঘ মন্ত্র।