চিকিৎসা শেষে বাঘিনী ফিরল সুন্দরবনে

সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে আহত হওয়া সেই বাঘিনী চিকিৎসা শেষে সুন্দরবনে ফিরেছে। শনিবার গভীর রাতে খুলনা নগরীর বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে তাকে নিয়ে রওনা দেন কর্মকর্তারা। রবিবার সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ বলে দাবি করছে বন বিভাগ। সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো সুন্দরবনে অসুস্থ বাঘকে সুস্থ করে বনে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বনে ফিরে বাঘিনী কেমন আচরণ করবে, তা নজরে রাখতে সুন্দরবনের প্রায় আট কিলোমিটারজুড়ে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

বনবিভাগ জানিয়েছে, বনে ফিরে প্রকৃতিতে টিকে থাকতে তার কোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে কি না, সে সব বোঝার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব ছিল। এর মধ্যে আধুনিক ট্র্যাকিং ডিভাইস হিসেবে স্যাটেলাইট কলার ছিল অন্যতম, কিন্তু তা সংগ্রহ করা যায়নি। এর বিকল্প হিসেবে বাঘিনীর বিচরণ এলাকায় প্রায় আট কিলোমিটার জুড়ে প্রাথমিকভাবে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।’ এ সব ক্যামেরা দিয়ে বাঘিনীর গতিবিধিতে চোখ রাখা হবে। 

উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে একটি বাঘিনীর ফাঁদে আটকে পড়ার খবর পায় বন বিভাগ। পরদিন ৪ জানুয়ারি ট্রানকুইলাইজার গান দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে বাঘিনীটিকে উদ্ধার করা হয়, পরে ফাঁদ কেটে লোহার খাঁচায় ভরে খুলনায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়। 

বর্তমানে বাঘিনীটি পুরোপুরি সুস্থ বলে জানালেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনা কার্যালয়ের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার। তিনি বলেন, বাঘিনীটির বয়স ১০ থেকে ১১ বছর। সামনের বাঁ পায়ে প্রায় তিন ইঞ্চি জায়গা জুড়ে চামড়া, মাংসপেশী ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফাঁদের রশিতে বারবার টানাটানির কারণে ক্ষতস্থানে পচন ধরেছিল। অ্যান্টিবায়োটিক ও নিয়মিত ড্রেসিং করানো হলে মার্চ মাসে ক্ষত শুকিয়ে আসে। সেই সঙ্গে হারানো ক্ষিপ্রতা ও গতিও ফিরে পায় বাঘিনী।