টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খোদারকুম এলাকার ষাটোর্ধ্ব মঞ্জুরা বেগম। ঘরে পানি ওঠায় গত দুই দিন ধরে রান্না করতে পারেননি তিনি। অনাহারে ও নির্ঘুম অবস্থায় কাটছে তার দিন-রাত।
গতকাল রবিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণ টিনের ঘরের ভেতর হাঁটুসমান পানি। ঘরের একমাত্র চৌকির ওপর গুটিসুটি মেরে বসে আছেন মঞ্জুরা বেগম। রান্নাঘরের চুলা পানির নিচে তলিয়ে থাকায় দুই দিন ধরে জ¦লেনি আগুন। শুকনো কোনো জায়গা না থাকায় ঘুমানোরও সুযোগ নেই। বৃষ্টির পানি, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ আর ক্ষুধার যন্ত্রণা নিয়ে একাই সময় পার করছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, বহু বছর আগে মঞ্জুরার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে একাই বসবাস করছেন। দেখভাল করার মতো সন্তান বা নিকটাত্মীয় কেউ নেই। মানুষের সহায়তায় কোনোমতে চলা তার জীবন এবার বন্যার পানিতে আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মঞ্জুরা বেগম বলেন, দুই দিন ধরে চুলা জ্বলেনি। ঘরে শুধু পানি। খাওয়ার কিছু নেই। রাতে ঘুমাতে পারি না। কেউ এসে খোঁজও নেয়নি।
সরেজমিন দেখা যায়, ঘরের ভেতরে থাকা চাল-ডাল, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। বসার মতো শুকনো স্থান না থাকায় চৌকির ওপরই দিন পার করছেন তিনি। পানিবন্দি থাকায় বাইরে গিয়ে খাবার সংগ্রহেরও কোনো সুযোগ নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার শুরু থেকে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ হলেও মঞ্জুরা বেগমের ঘরে এখনো কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পৌঁছেনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কেউ তার খোঁজ নেয়নি।