প্রত্যাহারের পর সবচেয়ে বেশি আলোচিত যে ২ ডিসি

সম্প্রতি দেশের প্রশাসনিক রদবদলে বেশ কয়েকজন জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রত্যাহার করা হলেও আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন সিলেট ও কুষ্টিয়ার বিদায়ী দুই ডিসি।

সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি বা প্রত্যাহার একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হলেও, এই দুই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে। তাদের  প্রত্যাহারের আদেশ আসার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনকে রাস্তায় নেমে নজিরবিহীন আন্দোলন গড়ে তুলতে দেখা যায়।

সিলেটের সাবেক ডিসি সারওয়ার আলম
গত ২১ জুন এক আকস্মিক আদেশে সিলেটের তৎকালীন ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। তার এই প্রত্যাহার কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না, বরং এটি সিলেটবাসীকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তার এই আকস্মিক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি সিলেটবাসী। এর প্রতিবাদে সিলেটে সপ্তাহব্যাপী নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন।

কোনো সরকারি কর্মকর্তার প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

কুষ্টিয়ার সাবেক ডিসি ইকবাল হোসেন
গত ১ মার্চ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আদেশক্রমে দেশের ৫ জেলার ডিসিসহ কুষ্টিয়ার তৎকালীন ডিসি মো. ইকবাল হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কুষ্টিয়া। তখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তাকে বহাল রাখার দাবিতে সাধারণ জনগণ আন্দোলন শুরু হয়। অথচ ঠিক একই সময়ে ভেতরে কর্মকর্তারা ডিসির দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। 

এছাড়া তার বদলিকে কেন্দ্র করে জেলায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।