বাংলাদেশি সম্পাদককে হুমকি 

‘আমি সাদা চামড়ার মানুষ, আমার সঙ্গে এসব করতে আসবেন না’

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০১:২১ পিএম

বাংলাদেশ সফরকারী ব্রিটিশ মানবাধিকার কর্মী অ্যান্ডি হলের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণ এবং গণমাধ্যম কর্মীদের মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি বাধাগ্রস্ত করতে একটি বিশেষ চক্রের লবিস্ট হিসেবে কাজ করা এবং নেতিবাচক বক্তব্য দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ানোর খবর প্রকাশের পর তিনি এই হুমকি দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফকরুল ইসলাম এবং আফিয়া ওভারসীসের মালিক আলতাব হোসেনের আমন্ত্রণে গত ১ জুলাই অ্যান্ডি হল বাংলাদেশে আসেন। ৪ জুলাই পর্যন্ত অবস্থানকালে তিনি কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও এনজিও কর্মীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম এবং পরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাৎকালে নিজের বক্তব্যে সায় না দেওয়ায় অ্যান্ডি হল মন্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এই সংক্রান্ত সংবাদ বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা বিষয়টির অনুসন্ধান শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অ্যান্ডি হল একটি গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রকাশককে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে মামলার হুমকি দেন। বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমি আপনার বিরুদ্ধে মামলা করবো, আপনি বা আপনার সাংবাদিক আর্থিক সুবিধা নিয়ে রিপোর্ট করেছেন। আপনি আমার সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানো উচিত হয়নি। কারণ আমি ব্রিটিশ ও সাদা চামড়ার মানুষ। আপনি আমার সঙ্গে এসব করতে আসবেন না।’ অপর এক ক্ষুদে বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমার আইনজীবী আপনি ও আপনার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’

এর আগে অ্যান্ডি হলকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফকরুল ইসলাম এক বার্তায় লেখেন, ‘ভাই, আপনার পত্রিকার নিউজ, গোয়েন্দা সংস্থা সহ সরকারের সব পর্যায়ে চলে গেছে এবং কি মালয়েশিয়াতে গিয়েছে, অনেকে প্রিন্ট করে রেখেছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা অ্যান্ডি হলের সফরের বৈধতা নিয়ে জানান, ‘তিনি টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন। এখানে এসে তিনি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তার রহস্যময় আচরণ উদ্বেগজনক এবং বর্তমানে তার বিষয়ে তদন্ত চলছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য অ্যান্ডি হলকে মালয়েশিয়ার একটি আদালত ৩ বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ ৫০ হাজার বাথ জরিমানা করেছিল। বর্তমানে তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় পৃথক পৃথক তদন্ত চলছে।

এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শ্রম অধিকার কর্মী পরিচয়ে একজন ব্রিটিশ নাগরিক গত ৪ জুলাই মন্ত্রণালয়ে এসে সাক্ষাৎ করেন। তার বক্তব্য যৌক্তিক না হওয়ায় তা আমলে নেওয়া হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত