পাসপোর্ট ইস্যুতে সৌদি প্রবাসীদের সুখবর দিলেন রাষ্ট্রদূত

প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট ইস্যুতে দীর্ঘ ভোগান্তির পর সু-খবর দিলেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দিয়েছেন যে, দেশটিতে থাকা প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আগামী মাসের মধ্যে সমাধান করা হবে।

একই সাথে, দূতাবাসের বিরুদ্ধে আনা 'অনিয়ম ও দুর্নীতির' অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন' আখ্যা দিয়ে তিনি যেকোনো গঠনমূলক তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রদূত রবিবার রাজধানী রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব মন্তব্য করেন। সভায় দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) মো. নুরুল আমিন এবং সৌদি আরবে কর্মরত বিভিন্ন বাংলাদেশী গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, গত বছরের শেষের দিকে মেশিন-রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) বন্ধ করে দেওয়ার পর ই-পাসপোর্ট কর্মসূচি চালু করা হয়। এতে প্রযুক্তিগত কারণে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহে কিছুটা ধীরগতি দেখা দেয়। তবে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যুক্ত করা হয়েছে এবং জনবলের সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আশ্বাস দেন যে, পাসপোর্ট নবায়ন ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংক্রান্ত দীর্ঘ সারি আগামী মাসের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং প্রবাসীরা কোনো বিলম্ব ছাড়াই বায়োমেট্রিক প্রদান করতে পারবেন। দূতাবাসের কার্যক্রমে সাম্প্রতিক 'অবহেলা ও দুর্নীতি'র অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, দূতাবাসের সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন সূত্র থেকে আসা অভিযোগগুলোর কোনো প্রমাণ নেই। যদি কেউ কোনো নির্দিষ্ট অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন,তাহলে আমি স্বেচ্ছায় আমার পদ থেকে সরে দাঁড়াবো।

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঠিক তথ্য যাচাই করে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান। একই সাথে, কিছু প্রবাসী বাংলাদেশির অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে বাংলাদেশিদের দ্বারাই অন্য বাংলাদেশিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের সহায়তায় অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আশ্বাস দেন যে, যাতে কোনো অপরাধী পার পেয়ে না যায়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করতে হবে এবং প্রয়োজনে মামলাটি বাংলাদেশে স্থানান্তরের জন্য আইনি সহায়তা প্রদান করতে হবে।

রাষ্ট্রদূতের এমন আশ্বাসের পর স্বস্তি ফিরে এসেছে সৌদি প্রবাসীদের মাঝে। কারণ এই পাসপোর্ট ইস্যু নিয়ে গত এক বছর যাবত ভোগান্তিতে ছিল সৌদি আরবের কর্মরত প্রায় ৩৫ লাখ প্রবাসী। সৌদি আরবে কতিপয় প্রবাসী বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া এবং সেইসব প্রবাসীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যেসব উদ্যোগ নেবে তাকে সহযোগিতা করার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।