এবার বালেন শাহর পদত্যাগ চায় জেন-জি’রা

এক বছরেরও কম সময় আগে নেপালের তরুণদের বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। বছর না পেরোতেই এবার তার পদত্যাগের দাবিতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নেপাল। রাইড শেয়ারিং অ্যাপের এক চালকের আত্মহননের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে নতুন করে গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে কাঠমান্ডু পুলিশ এক চালকের মোটরসাইকেলের চাকায় তালা লাগিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ওই তরুণ নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। শুরুতে আন্দোলনকারীরা বালেন শাহ নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে এ ঘটনার জবাবদিহি ও বিচার দাবি করলেও, ক্রমেই তা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়। আন্দোলন ঘিরে গত ৩ দিনে দুজনের মৃত্যু হয়েছে; গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও একজন যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গত রবিবার শত শত তরুণ কাঠমান্ডুর প্রশাসনিক কেন্দ্র ‘সিংদরবার সচিবালয়’এর সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘গরিবের ওপর অত্যাচার বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকারের সম্মান দাও’। এ ছাড়া বালেন শাহর সরকার নদী তীরের যেসব বস্তিবাসীকে উচ্ছেদ করছে, তাদের পুনর্বাসন ও বেআইনি গ্রেপ্তার বন্ধের দাবিও জানানো হয়। দেশটির তরুণ প্রজন্মের সংগঠন ‘জেন-জি নেপাল’ প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর বিরুদ্ধে গণবিরোধী ও স্বৈরাচারী কায়দায় সরকার পরিচালনার অভিযোগ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের বাজেট ও নীতিমালায় বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দেশটির প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, দেশের তরুণদের মনে আশা ও আস্থা জাগাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে নতুন সরকার।

২০২২ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বালেন শাহর অধীনে কাঠমান্ডু মিউনিসিপ্যাল পুলিশের আচরণ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফুটপাত ও ভাসমান বাজার দখলমুক্ত করতে এবং নদী তীরের বস্তি উচ্ছেদে বালেন শাহর ‘হার্ডলাইন’ বা কঠোর অবস্থান জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে এই উচ্ছেদ অভিযানগুলো সহিংস রূপ নিয়েছে, যা মূলত শহরের দরিদ্রতম বাসিন্দাদের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন তাদের সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করছে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রাজু চাপাগাইন বলেন, আইনি কাঠামো অনুযায়ী মিউনিসিপ্যাল পুলিশকে শারীরিক শক্তি প্রয়োগ বা দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।