আন্তর্জাতিক খেলাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অনেক ক্রীড়া ডিসিপ্লিনের ঘরোয়া আসর এখন হিমাগারে। তাদের একটি কাবাডি। জাতীয় খেলা কাবাডি হারাতে বসেছে নিজস্ব সত্তা। চার বছর ধরে হয় না প্রিমিয়ার ও প্রথম বিভাগ কাবাডি লিগ। তিন বছর আগে শেষবার ম্যাটে গড়িয়েছে দ্বিতীয় বিভাগ লিগ। কিছু টেস্ট সিরিজ, নেপাল কাবাডি লিগে খেলে এবং আন্তর্জাতিক গেমস ও টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েই তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছে অ্যাডহক কমিটি। লিগ নিয়মিত না হওয়ায় ধুঁকছে প্রিমিয়ার ও প্রথম বিভাগের ক্লাবগুলো।
সবশেষ ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত হয় প্রিমিয়ার ও প্রথম বিভাগ কাবাডি লিগ। পরের বছর দ্বিতীয় বিভাগ। সেখানে আনসার চ্যাম্পিয়ন ও বিকেএসপি রানার্সআপ হয়েছিল। ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর কাবাডিতে নতুন কমিটি এলেও লিগ নিয়ে কোনো সুখবর নেই। তিন বছর লিগ না হওয়ায় সংকটে পড়েছে ক্লাবগুলো। প্রিমিয়ারের আটটি এবং প্রথম বিভাগের ১০টি ক্লাবের খেলোয়াড়রা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায়। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সোহাগ গত বছর জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ বর্ষপঞ্জিতে কাবাডির প্রিমিয়ার, প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগ রাখলেও তা আর হয়নি। বরং নারী বিশ্বকাপ কাবাডির আয়োজন করেছে এবং আন্তর্জাতিক গেমসগুলোতে অংশ নিয়েছে দেশের কাবাডি। কিন্তু ঘরোয়া আসর দেখেনি আলোর মুখ।
প্রিমিয়ার কাবাডি লিগে ক্লাব আজাদ স্পোর্টিংয়ের সদস্য সচিব এসএমএ মান্নানের মতে, ‘তিন বছর ধরে লিগ না হওয়ার কোনো কারণ নেই। আন্তর্জাতিক সব আসরেই তো বর্তমান কমিটি অংশ নিচ্ছে। তাহলে ঘরোয়া আসর বন্ধ রয়েছে কেন? লিগ চালু না হলে খেলোয়াড়দের রুটি-রুজি একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ দীর্ঘদিন খেলতে না পেরে আমাদের খেলোয়াড় ও ক্লাবগুলো আশাহত। আমার মনে হয়, আন্তর্জাতিক আসরেই তাদের লাভ বেশি। তাই ঘরোয়া আসরের দিকে তাদের কোনো মনোযোগ নেই।’ প্রথম বিভাগের ক্লাব আইডিয়াল ক্রীড়া চক্রের কর্ণধার মেহেদী হাসান সুমনের কথায়, ‘বর্তমান কমিটি কেবল বিদেশ ভ্রমণ নিয়েই ব্যস্ত। গত দেড় বছর ক্ষমতায় থেকেও একটি লিগও ম্যাটে গাড়াতে পারেনি তারা। এটা কোনো জাতীয় ফেডারেশনের কার্যক্রম হতে পারে না। অন্যেরা ঘরোয়া আসর চালু রাখতে পারলে কাবাডি কেন পারছে না।’ এ বিষয়ে কাবাডি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক নেওয়াজ সোহাগ বলেন, ‘গত বছর নারী বিশ্বকাপ কাবাডির আয়োজন, এশিয়ান ইয়ুথ গেমস ও এশিয়ান বিচ গেমসে অংশগ্রহণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলন করাতে হয়েছিল। তাই লিগের খেলা গড়ানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে এবারের বর্ষপঞ্জীতে আমরা তিনটি লিগ রেখেছি। আশাকরি তিনটিই করতে পারব।’