ইরানে রাতভর হামলা

পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে। এর জের ধরে ইরানের অভ্যন্তরে রাতভর একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মূলত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত ইরানি সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলরক্ষী ঘাঁটি, বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির সাথে জড়িত সামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, ইরানের অভ্যন্তরে একটি পারমাণবিক স্থাপনায় পরবর্তী হামলা চালানোর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।

এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ৩টা ১০ মিনিটে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুশেহরে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এই বিস্ফোরণের বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের ওমিদিয়া শহরেও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

এই সামরিক পদক্ষেপের আগেই ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট অর্থ আদায় করবে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিজেকে ‘হরমুজ প্রণালির অভিভাবক’ হিসেবে দাবি করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই অস্থিতিশীল অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যয়ভার বহনের জন্য অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী সব কার্গো জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে। এই প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

সূত্র: আল জাজিরা