শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে দিনভর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের পর এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফটকে তালা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার কিছু পরে এই ঘটনা ঘটে।
এর আগে চারটার দিকে আন্দোলনকারীরা নগরীর দুই নম্বর গেট থেকে শিক্ষা বোর্ডে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে তারা শিক্ষা বোর্ডের সচিবের সঙ্গে সাক্ষাত করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল সচিবের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে বেরিয়ে আসলে বাইরে অবস্থান করা অন্য আন্দোলনকারীরা তাদের ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দিতে থাকে।
এক পর্যায়ে তারা শিক্ষা বোর্ডের একটি ফটকে তালা দেয়। এসময় সাংবাদিকসহ অনেকেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তারা বের হয়ে শিক্ষা বোর্ডের অন্য ফটক ভেঙে রাস্তায় নিয়ে বিক্ষোভ করে। বিকেল ৬ টা পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ চলছিল।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন দেশ রুপান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের কিছু দাবি দাওয়া দিয়েছে। আমরা শুনেছি। তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পৌঁছে দিয়েছি। তাদের দাবি হলো সারা দেশের পরীক্ষা বন্ধ রাখতে হবে। আমরা বলেছি সারা দেশের সাথে আমাদের তো সম্পর্ক নেই। আমরা ১৬ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রেখেছি। প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সিদ্ধান্ত নেব।
কিন্তু তারা দাবিতে অনড়। তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চায়। তিনি আরও বলেন, তারা শিক্ষা বোর্ডের গেট ভেঙে ফেলছে। আমাদেরও তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে নগরীর ষোলশহর এলাকায় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল তাদের দাবিদাওয়া শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো-সাম্প্রতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেননি তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, সাম্প্রতিক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষার সময়সূচি বহাল রাখায় অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এতে অসংখ্য শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান তারা।