৪ কোটি খরচে পদকহীন যাত্রা!

কমনওয়েলথ গেমসের ১০ ডিসিপ্লিনের মধ্যে মাত্র চারটিতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। আর এতেই খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা (৩ কোটি ৯০ লাখ)। যার মধ্যে অনুশীলন বাবদ ১ কোটি এবং বাকি ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা অংশগ্রহণ বাবদ। ফলাফল কী? ভালো ফলের প্রত্যাশা। তবে পদকহীন এক যাত্রা। মঙ্গলবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডাচ-বাংলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথাই বললেন মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা। তার কথা, ‘বিগত সময়ে এই গেমস থেকে দুটি স্বর্ণ, চারটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জ এসেছিল শুটিং ডিসিপ্লিন থেকে। এবারের আসরে শুটিং নেই, আরচারিও নেই। তাই আমরা ভালো ফলের প্রত্যাশা নিয়েই যাচ্ছি গ্লাসগোতে।’ ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এই গেমস।

ইউরোপের স্কটল্যান্ডের এই শহরকে নাকি গেমসটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই ইভেন্ট সংখ্যা যেমন কম থাকছে, তেমনি একটি কমপ্লেক্সের মধ্যেই রাখা হয়েছে খেলার ভেন্যুগুলো। শুধু তাই নয়, নির্মিত কোনো গেমস ভিলেজ থাকছে না। বেশ কিছু হোটেলকে এক সঙ্গে নিয়ে অ্যাথলেটদের জন্য গেমস ভিলেজ তৈরি করা হয়েছে এমনটাই জানালেন রানা। আসরে চার ডিসিপ্লিনে ১৫ জন ক্রীড়াবিদের সঙ্গে সাতজন কোচ ও কর্মকর্তা যাচ্ছেন। আর ৩৫ জনের বহরের বাকি ১৩ জনই বিওএ এবং বিভিন্ন ফেডারেশনের কর্মকর্তা। যার মধ্যে অ্যাথলেটিকসে পাঁচ অ্যাথলেটের সঙ্গে দুজন, বক্সিংয়ে তিন বক্সারের সঙ্গে দুজন, জিমন্যাস্টিকসে ৩ জিমন্যাস্টের সঙ্গে একজন এবং সুইমিংয়ে চারজন সাঁতারুর সঙ্গে দুজন কর্মকর্তা যাচ্ছেন। এত খরচ করেও প্রত্যাশা শূন্য কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিওএর মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের মাত্র আড়াই মাসের অনুশীলন। তাছাড়া ক্রীড়া স্থাপনার অভাবও রয়েছে। এমনও হয়েছে, এক ভেন্যুতে সময় কেটে চারটি ডিসিপ্লিনকে অনুশীলন করাতে হয়েছে। আড়াই মাসের অনুশীলন এবং ইউরোপে গেমস বলেই খরচা বেশি হচ্ছে।’ উদ্বোধনী দিনের মার্চপাস্টে লাল-সবুজের পতাকা থাকবে সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফির হাতে। আর ব্যাটন রিলে থাকবে আরেক সাঁতারু সোনিয়া আক্তারের কাছে। এ বিষয়ে রানার কথা, ‘যেহেতু অ্যাথলেট দল উদ্বোধনের পর যাবে, তাই দুটিই সাঁতারুরা বহন করবে।’

বক্সিংয়ে জিনাত ফেরদৌসের সঙ্গে দুজন পুরুষ বক্সারও যাচ্ছেন গ্লাসগোতে। ৫৫ কেজিতে রাকিব হোসেন এবং ৬০ কেজি ওজন শ্রেণিতে লড়বেন রুহিন রেজা। অ্যাথলেটিকস ডিসিপ্লিনের পাঁচটি ইভেন্টে লড়বেন লাল-সবুজের পাঁচ অ্যাথলেট। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দেশের দ্রুততম মানব নৌবাহিনীর ইমরানুর রহমান ও মানবী একই সংস্থার শিরিন আক্তার, ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে সেনাবাহিনীর লুশাদ ইসলাম, ৪০০ মিটার স্প্রিন্ট সেনাবাহিনীর নাজিমুল ইসলাম এবং মেয়েদের লংজাম্পে নৌবাহিনীর স্বপ্না খাতুন। সুইমিং ডিসিপ্লিনে পুলে নামবেন লাল-সবুজের চার সাঁতারু। এরা হলেন নৌবাহিনীর সামিউল ইসলাম রাফি, একই সংস্থার কাজল মিয়া, সেনাবাহিনীর সুকুমার রাজবংশী ও নৌবাহিনীর সোনিয়া আক্তার। আর জিমন্যাস্টিকসে নিজেদের কসরত দেখাবেন শিশির আহমেদ, রাজিব চাকমা ও আবু সাঈদ রাফি।