ইংল্যান্ডের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলের হারের বেদনা ভুলে এক অন্যরকম উদযাপনে মেতেছে নরওয়ে। সোমবার রাজধানী অসলোর রাজপ্রাসাদ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছিলেন লক্ষাধিক ফুটবলপ্রেমী। সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন অধরা থাকলেও, নিজেদের জাতীয় দলকে বীরের বেশে বরণ করে নিতে কার্পণ্য করেননি দেশটির সমর্থকরা।
সোমবার বিকেলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা অসলোতে পৌঁছালে ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে তাদের স্বাগত জানানো হয়। কার্ল জোহানস গেট থেকে রাজপ্রাসাদ চত্বর পর্যন্ত ছিল মানুষের ঢল। এই অভূতপূর্ব সমর্থন দেখে আবেগাপ্লুত অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড বলেন, ‘আমরা কেউই এমন কিছুর কল্পনা করিনি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরা পর্যন্ত যে সমর্থন পেয়েছি, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
অবশ্য আর্লিং হালান্ড ও স্যান্ডার বার্গ বিমান ধরার তাড়ায় মূল অনুষ্ঠানের শেষভাগে থাকতে না পারায় ভক্তদের মনে কিছুটা আক্ষেপ ছিল। তবে ছাদখোলা বাসে খেলোয়াড়দের শহর প্রদক্ষিণ করার সময় ভক্তদের উন্মাদনায় ছিল ভিন্নমাত্রা। মাঠের বিতর্কের চেয়ে এখন দলের লড়াইকেই বড় করে দেখছেন সমর্থকরা।
সিটি হল স্কয়ারে এসে শেষ হয় এই শোভাযাত্রা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হারের গ্লানি মুছে ফিরে আসা খেলোয়াড়দের প্রতি অসলোবাসীর এই ভালোবাসা জানান দিল, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি একটি জাতির সম্মিলিত আবেগ।
আলোচনায় হালান্ডের মদখোর রাকুন : নরওয়ের ওসলো বিমানবন্দরে যখন হালান্ড বিমান থেকে নামেন, তখন তার হাতে দেখা যায় একটি অদ্ভুত জিনিস। কোনো ট্রফি বা মেডেল নয়, হালান্ডের হাতে ছিল একটি ট্যাক্সিডার্মি (সংরক্ষিত চামড়া বাঁধানো) রাকুন, যার হাতে আবার ধরা ছিল একটি হুইস্কির বোতল!
নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সেই রাকুনের ছবি পোস্ট করে হালান্ড ক্যাপশনে লেখেন, ‘এটি নিজেই আমার পিছু পিছু বাড়ি চলে এসেছে!’ শুধু তাই নয়, নতুন এই সঙ্গীর নাম কী রাখা যায়, তা নিয়ে ভক্তদের কাছে ভোটও চেয়েছেন তিনি। নাম রাখার দৌড়ে এগিয়ে আছে কাউবয়, রেঞ্জার, টেক্স এবং আর.ও.ডব্লিউ।
জানা গেছে, টেক্সাসের ডালাসে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারানোর পর ডালাসের বিখ্যাত ‘ওয়াইল্ড বিলস ওয়েস্টার্ন স্টোর’-এ শপিং করতে গিয়েছিলেন হালান্ড। সেখান থেকেই প্রায় ৭৫০ মার্কিন ডলার (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ টাকা) খরচ করে এই ‘হুইস্কি রাকুন’ কেনেন তিনি।