ঘুষের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রকৌশলী ফেনীতে, বদলির আদেশ বাতিলের দাবি

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল জিসানকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগসহ নানা অনিয়মে অভিযুক্ত ফেনী পৌরসভায় বদলি করা হয়েছে। এ বদলির আদেশ প্রকাশের পর ফেনী পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মো. সগীর আহম্মেদের সই করা এক অফিস আদেশে নাজমুল জিসানকে ফেনী পৌরসভায় এবং ফেনী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. নাজিম উদ্দিন শামিমকে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় বদলি করা হয়। 

বদলির আদেশের প্রতিক্রিয়ায় ফেনী পৌরসভার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারের বদলির আদেশকে আমরা সম্মান করি। তবে একজন সৎ, কর্তব্যপরায়ণ ও নিষ্ঠাবান সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে সবাই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। 

স্থানীয় বাসিন্দা মনছুর আলম বলেন, ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই ফেনীতে হবে না। এ বদলির আদেশ বাতিল না হলে আমরা আন্দোলনের কথাও ভাবছি।

পৌরসভার এক কর্মচারী দাবি করেন, এর আগেও নাজমুল জিসানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তাকে দাগনভূঞা থেকে শায়েস্তাগঞ্জে বদলি করা হয়েছিল।

জানা গেছে, সম্প্রতি নাজমুল জিসানের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নেওয়া অর্থ ফেরতের দাবিতে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ঠিকাদার মো. সোহেল মিয়া। তিনি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভাকে ৫০ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেয়। ওই বরাদ্দের আওতায় কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নাজমুল জিসান তার কাছ থেকে অগ্রিম ৪ লাখ টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন সোহেল মিয়া। 

অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি এবং একাধিকবার যোগাযোগ করেও তিনি টাকা ফেরত পাননি। প্রতিবারই বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রয়োজনে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্র্যাচুইটি থেকে ওই অর্থ সমন্বয়েরও অনুরোধ জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল জিসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি তাকে এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। তাকে ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করানো হয়েছে।